ভোট চুরি করতে এলে হাসপাতালেই যেতে হবে: সারজিস আলম

- আপডেট: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 5
পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ভোটাধিকার নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি সহ্য করা হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা ভোট চুরির উদ্দেশ্যে মাঠে নামবে, তাদের পরিণতি ভালো হবে না।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পঞ্চগড় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে সারজিস আলম বলেন, আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, একটি ভোটও অন্যায়ভাবে হাতছাড়া হতে দেওয়া হবে না।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে অনেকেই বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে সাধারণ মানুষের পাশে আর তাদের দেখা যায় না। স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জমি ও বিভিন্ন মহাল দখলের সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও বসতবাড়ি রক্ষায় সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে কিছু জায়গায় হামলা ও দখলের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পেছনেও একটি দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, মুখে ভদ্রতার কথা বললেও তৃণমূল পর্যায়ে যারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেয়, জনগণকে তাদের প্রকৃত চেহারা চিনে নিতে হবে। তার দাবি, সাম্প্রতিক অভ্যুত্থান দেশকে পুরোপুরি মুক্ত করতে না পারলেও এই নির্বাচনই নব্য স্বৈরাচার থেকে বেরিয়ে আসার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
নিজের বয়স নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সংকটকালে যারা রাজপথে ছিলেন না, কেবল ভোটের সময় সক্রিয় হন—তারা জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হতে পারেন না।
নির্বাচনে জয়ী হলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নির্দোষ নেতাকর্মীরাও সম্মানের সঙ্গে রাজনীতি করার সুযোগ পাবেন উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, পঞ্চগড়ের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত।

























