ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বাব এল-মান্দেবের পর এবার তেলসমৃদ্ধ পূর্ব ইয়েমেনের দিকে হুথিরা

Iইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে বড় ধরনের সামরিক অগ্রযাত্রার এক সপ্তাহ পর এবার দেশটির তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলের দিকে নজর দিচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলন। মোখা বন্দরনগরী ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছের কয়েকটি দ্বীপ দখলের পর তাদের অবস্থান এখন বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সৌদি আরবের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।হুথিদের এই অগ্রযাত্রা ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধকে আবারও তীব্র করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও জাহাজে হামলা এবং পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের ওপর আঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়িয়েছে।হুথিরা প্রথমে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করে। এরপর বাব এল-মান্দেবের কাছের কয়েকটি দ্বীপও তাদের নিয়ন্ত্রণে যায়। শান্তিকালে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ চলাচল করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে হুথিদের সাম্প্রতিক দখল মানেই বাব এল-মান্দেবের সব আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল তাদের হাতে চলে গেছে—এমন নয়। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ওই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমলেও তা অব্যাহত আছে। বৃহস্পতিবার ২৩টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা ১০ দিনের গড় ২৬টির সামান্য নিচে। এরপর হুথিদের নজর পড়েছে মারিব প্রদেশের দিকে। তেল ও গ্যাসসম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। এর আগেও হুথিরা একাধিকবার মারিব দখলের চেষ্টা করলেও পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। এবার সেখানে আবারও ভারী লড়াই চলছে। পশ্চিমের তাইজ শহরেও চাপ বাড়িয়েছে হুথিরা। বিশ্লেষকদের মতে, মোখা ও আশপাশের দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাদেরকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর আরও সহজে চাপ তৈরির সুযোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবকে তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থায় দেখছে হুথিরা—বিশেষ করে বৃহত্তর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে। হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি দাবি করেছেন, তাদের হামলার লক্ষ্য সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও স্থাপনা। তবে অতীতে গাজা যুদ্ধের সময় হুথিদের হামলার শিকার হওয়া কয়েকটি জাহাজের সঙ্গে সরাসরি ইসরায়েলের সম্পর্ক ছিল না। ফলে ভবিষ্যতে হামলার পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে শিপিং ও সংঘাত বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।এই নতুন সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সর্বশেষ হিসাবে নতুন করে এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা শুক্রবার জানায়, ইয়েমেনের ভেতরেই অন্তত ১ লাখ ১২ হাজার মানুষ ঘর ছেড়েছেন এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে জিবুতিতে পালিয়েছেন। কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। গত সপ্তাহে ওমানে মার্কিন ও হুথি প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিও এই সংঘাতে প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে, যদিও পাকিস্তান ও তুরস্ক জানিয়েছে, অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার জন্য সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তখনও তারা পায়নি।হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা এখন ইয়েমেনের যুদ্ধের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত, অন্যদিকে বাব এল-মান্দেবেও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ফলে বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ একসঙ্গে চাপে পড়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

বাব এল-মান্দেবের পর এবার তেলসমৃদ্ধ পূর্ব ইয়েমেনের দিকে হুথিরা