২০ দিনের অনশনের পর হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুক
ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২০ দিন অনশন করার পর পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতলে ভর্তি করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে পুলিশ তাকে প্রতিবাদস্থল থেকে সরিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।৫৯ বছর বয়সী এই পরিবেশকর্মী NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছিলেন।[BANGVIEWS-POST:2009]দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন অনশনের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়।ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সচেতন রয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তর এলাকায় থাকা আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার সময় কয়েকজন প্রতিবাদকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এর আগে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল।চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ অনশনের কারণে ওয়াংচুকের শরীরে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। এর আগে এক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ৮ কেজির বেশি ওজন হারিয়েছেন।ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতা তার সঙ্গে দেখা করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা, সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য ডিম্পল যাদব এবং আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তারা তাকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।[BANGVIEWS-POST:2004]আন্দোলনকারীরা আগামী ২০ জুলাই ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদ অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সংগঠনটি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে। তাদের অন্যতম দাবি, NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
তবে ধর্মেন্দ্র প্রধান এই দাবির সমালোচনা করে বলেছেন, আন্দোলনকারীরা দেশের অগ্রগতিতে বিশ্বাস করে না এবং তারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।