ঢাকা    সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ ১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কলকাতায় নানকের বিলাসী জীবন, টাকা যাচ্ছে কোথা থেকে?

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রায় দুই বছর ধরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশে থাকা তার বিভিন্ন সম্পদ ও ব্যবসা থেকে আয় করা অর্থ অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে নিয়মিত তার কাছে পাঠানো হচ্ছে।যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন নানক। পরে শিলং ও মালদা হয়ে কলকাতায় যান। কলকাতার তপসিয়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নানকের সম্পদের পরিমাণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় নানক ও তার স্ত্রীর যৌথ সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৫১ টাকা। ২০২৪ সালের হলফনামায় সেই সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৮৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৫১ টাকায়। অর্থাৎ হলফনামার হিসাবে প্রায় ৩০ গুণ সম্পদ বেড়েছে। ২০২৪ সালের হলফনামায় নানক নিজের নামে ১২ কোটি ২৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩২৭ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৬ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার ৬২৪ টাকার সম্পদ দেখান। একই হলফনামায় রাজধানীর উত্তরায় ছয়তলা ভবন, মোহাম্মদপুরে আটতলা ভবন, বরিশালে দুটি বাড়ি, জমি এবং মাছের খামারসহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্য রয়েছে। তবে যুগান্তরের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হলফনামার বাইরে বরিশাল, ঢাকা, কক্সবাজার ও কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় নানক পরিবারের আরও সম্পদ রয়েছে। বরিশালের নথুল্লাবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, দোয়ারিকা এলাকায় জমি এবং বিভিন্ন বাড়ি ও ভবনের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের সব কটির মালিকানা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রতিবেদনের দাবি, বরিশাল ও ঢাকায় থাকা ভবন, জমি, ব্যবসা এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত আয় হচ্ছে। সেই আয়ের একটি অংশ স্থানীয় হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে।বরিশালের দুই ব্যবসায়ী এবং বেনাপোলের একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর অভিযোগও করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সরকারি তদন্ত বা আদালতের রায় প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ কর্মীর বরাতে যুগান্তর দাবি করেছে, হুন্ডির টাকা কলকাতার তপসিয়ার ফ্ল্যাটেই নানকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।নানকের বক্তব্য জানতে তার পরিচিত বিভিন্ন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং হোয়াটসঅ্যাপেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কলকাতায় নানকের বিলাসী জীবন, টাকা যাচ্ছে কোথা থেকে?