ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সুইজারল্যান্ডে তীব্র তাপপ্রবাহে দ্রুত গলছে হিমবাহের বরফ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা

ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের কারণে চলতি বছর সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোর বরফ দ্রুত গলছে। এতে দেশটির হিমবাহগুলো দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থাগুলো।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক (গ্ল্যামোস) এবং সুইস একাডেমি অব সায়েন্সেসের সুইস কমিশন ফর ক্রায়োস্ফিয়ার অবজারভেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোর ৫ শতাংশের বেশি বরফ গলে গেছে।এতে আরও বলা হয়েছে, হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে এবং অতিরিক্ত বরফ গলার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। গত পাঁচ বছরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বরফ হারিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের বরফে ঢাকা এলাকাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।গ্ল্যামোসের পরিচালক ম্যাথিয়াস হাস বলেন, ‘আমরা এখন এমন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছি, যেখানে বরফ গলে হিমবাহগুলো চোখের সামনে মিলিয়ে যাচ্ছে।’তিনি বলেন, শীতকালে তুলনামূলক কম তুষারপাত এবং গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে চলতি বছর ভয়াবহ মাত্রায় হিমবাহের বরফ গলেছে।গ্ল্যামোসের পরিচালক বলেন, এখন প্রায় প্রতিবছরই চরম পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এটি সত্যিই উদ্বেগজনক। তবে ২০২২ সালের মতো রেকর্ড হারে এখনো বরফ গলছে না বলেও জানান তিনি। ওই বছর উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ধুলোর মেঘ তুষারের ওপর জমে যাওয়ায় বরফ গলার হার ছিল নজিরবিহীন।সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হিমবাহ আলেৎশ চলতি বছর সবচেয়ে বেশি বরফ হারিয়েছে। অন্যদিকে গ্লেসিয়ার দ্য সঁফ্লেরঁ হিমবাহের গড় পুরুত্ব ৪ মিটারের বেশি কমেছে। কয়েক বছর আগেও এমন ঘটনা কল্পনা করা কঠিন ছিল বলে জানান হাস।গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি হারিয়েছে। দেশটির পরিবারগুলো এক বছরে যে পরিমাণ খাবার পানি ব্যবহার করে, তার তুলনায় এই পরিমাণ চারগুণেরও বেশি।হিমবাহের বরফ গলার একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। গ্রীষ্মকালে পানির সংকট কিছুটা কমাতে গলিত বরফ ভূমিকা রাখে। তবে হিমবাহের আয়তন এবং বরফে ঢাকা এলাকার পরিমাণ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সুবিধাও কমে আসছে বলে জানান হাস।ম্যাথিয়াস হাস আরও বলেন, ‘হিমবাহ কত দ্রুত গলছে, তা আমরা জানি। তাই এতে আমরা অবাক হই না। কিন্তু পাহাড়ের যেসব জায়গায় আগে তুষার ছিল, সেখানে এখন শুধু পাথর দেখা যাচ্ছে। এটা আমাকে কষ্ট দেয়।’

সুইজারল্যান্ডে তীব্র তাপপ্রবাহে দ্রুত গলছে হিমবাহের বরফ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা