মাগুরার আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে তার করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন বা ডেথ রেফারেন্স এবং তার করা আপিলের শুনানি শেষ হয়। ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল। পরে রায় ঘোষণা পিছিয়ে ৩১ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। [BANGVIEWS-POST:4834]আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক। রাষ্ট্রপক্ষ মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দি, হিটু শেখের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং চিকিৎসা প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। রমজানের ছুটিতে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল সে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আছিয়াকে প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয় এবং ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এরপর ১৭ মে ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত। তবে মামলার অপর তিন আসামি—আছিয়ার বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেন বিচারিক আদালত। [BANGVIEWS-POST:4833]আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২১ মে মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন হিটু শেখ। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করে হিটু শেখের আপিল খারিজ করেছেন। ফলে বহুল আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হিটু শেখের সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকল।