মা ইলিশ রক্ষা অ'ভিযানে ৮৭ জেলে আ'টক, ৮০ লাখ মিটার জাল জব্দ
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে বরিশালের হিজলা সংলগ্ন মেঘনা ও এর শাখা নদীগুলোতে পরিচালিত টানা ১১ দিনের অভিযানে ৮৭ জন জেলেকে আটক করেছে নৌ পুলিশ। এ সময় মৎস্য সুরক্ষা আইনে ৬৪টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে নদী থেকে ৮০ লাখ ৮৬ হাজার ৯০০ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং ২৪৭ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) মাধ্যমে আটক ১১ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।সোমবার (১৯ অক্টোবর) হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান–২০২৬ সফল করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন মেঘনা নদী ও এর শাখা নদীগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সাঁড়াশি টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বরিশাল অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরান হোসেন মোল্লা ও হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।অভিযানের সময় নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মা ইলিশ নিধনের হাতেনাতে প্রমাণ পেয়ে জেলেদের আটক করা হয়। আটক প্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে আদালতের সোপর্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত ৮০ লাখ মিটারেরও বেশি কারেন্ট জাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং উদ্ধার হওয়া ২৪৭ কেজি মাছ স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নদী থেকে ১৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে আটক করা হলেও বয়স বিবেচনায় তাদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরান হোসেন মোল্লা জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর রাতে নদীতে নামা কিছু মৌসুমি ও অসাধু জেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। জানমালের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সদস্যরা অবিচল থেকে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। মেঘনায় মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন শতভাগ নিশ্চিত করতে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।