ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নবজাতক ইউনিটে ছিল না অ্যালার্ম, আগুনে প্রাণ গেল ১৪ শিশুর

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের মা ও শিশু স্বাস্থ্য ইউনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতির তথ্য উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে।গত ২৬ আগস্ট ওই ইউনিটে আগুন লাগে। পরে অবসরপ্রাপ্ত এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুতর দুর্বলতা চিহ্নিত করে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবজাতক ইউনিটে ধোঁয়া শনাক্ত করার ব্যবস্থা, ফায়ার অ্যালার্ম কিংবা স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার—কোনোটিই ছিল না। জরুরি অবস্থায় নবজাতকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া বা অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়েও কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল না।তদন্তকারীদের ধারণা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বৈদ্যুতিক তার অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে আগুন প্লাস্টিক, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ময়লার পাত্রে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বৈদ্যুতিক তার কেন অতিরিক্ত গরম হয়েছিল, তার চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা যায়নি।ওই ইউনিটের কয়েকজন নবজাতক অক্সিজেন সহায়তায় ছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্সিজেন আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে থাকতে পারে, তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ হিসেবে অক্সিজেনকে নিশ্চিত করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।উদ্ধার অভিযানেও বড় বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল দমকলকর্মীদের। বিবিসিকে এক দমকলকর্মী জানিয়েছেন, হাসপাতালের কয়েকটি দরজা বন্ধ থাকায় উদ্ধারকারীদের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। নবজাতক ইউনিটের দিকেও কিছু দরজা বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আগুন লাগার প্রায় ২০ মিনিট পর জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয়। সকাল ৬টা ৫৪ মিনিটে কল পাওয়ার পর প্রথম উদ্ধারকারী দল সকাল ৭টা ১ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগে দাবি করেছিল, নবজাতক ইউনিটের দরজা তালাবদ্ধ ছিল না; নিরাপত্তার কারণে প্রহরী রাখা হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিটি বলেছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও জরুরি সময়ে বের হওয়ার বা উদ্ধারকাজের পথ কোনোভাবেই বন্ধ রাখা যাবে না।অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে হাসপাতালটি এর আগেও সতর্কবার্তা পেয়েছিল। ঘটনার প্রায় এক মাস আগে হাসপাতালের নার্সিং হোস্টেলেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তদন্ত কমিটির মতে, আগের সতর্কতার পরও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।ঘটনার পর আট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ তিন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা পরীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।সূত্র: বিবিসি

নবজাতক ইউনিটে ছিল না অ্যালার্ম, আগুনে প্রাণ গেল ১৪ শিশুর