ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হরমুজের পর বাব-এল-মান্দেব নিয়েও ইরানের হুঁশিয়ারি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের পর এবার বাব-এল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইয়েমেনের মিত্রগোষ্ঠী হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চাপ তৈরি করতে পারে ইরান।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব-এল-মান্দেবও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এই পথ ব্যবহার করে।বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরান এখন আঞ্চলিক সীমার বাইরে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিতে পারে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নৌপথকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করতে চাইছে তেহরান।[BANGVIEWS-POST:1887]ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখলে বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।হুতি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ইয়েমেনে হামলায় উৎসাহ দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে হরমুজ ও বাব-এল-মান্দেব উভয় প্রণালিই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইরানের অন্যতম বড় কৌশলগত হাতিয়ার হলেও বাব-এল-মান্দেব নিয়ন্ত্রণে চাপ সৃষ্টি করা হলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে।মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পাশাপাশি আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো ধীরে ধীরে সংঘাতের বিস্তার। এতে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হুতিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক হামলা চালিয়েছিল। এর ফলে অনেক আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়, এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়।[BANGVIEWS-POST:1888]বিশেষজ্ঞদের মতে, হুতিরা আবার বড় ধরনের নৌ হামলা শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দুই দেশের সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।সূত্র: রয়টার্স

হরমুজের পর বাব-এল-মান্দেব নিয়েও ইরানের হুঁশিয়ারি