ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়তে চায় সরকার

উচ্চশিক্ষার মান বাড়াতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইনোভেশন হাব, ইনকিউবেশন সেন্টার এবং সমন্বিত স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন।শুক্রবার (২১ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্টে আয়োজিত ‘উপাচার্যদের সংলাপ: উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী জাতীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের উদ্যোগে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।ড. মাহ্দী আমিন বলেন, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভাবনী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের নতুন ধারণা শুধু প্রতিযোগিতা বা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সরকারি সহায়তা ও অর্থায়নের মাধ্যমে সেগুলোকে বাস্তব ব্যবসা ও সফল স্টার্টআপে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।[BANGVIEWS-POST:4198]তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্পাঞ্চল, হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল থাকলেও সেগুলোর সঙ্গে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যকর যোগাযোগ এখনো যথেষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে এই দূরত্ব কমানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।গবেষণা খাত নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন ড. মাহ্দী। তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে সরকার। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রবেশাধিকার, আধুনিক গবেষণাগার এবং গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি এবং ফেলোশিপের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার মতে, এর মাধ্যমে মেধা পাচার কমিয়ে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষকদের দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় যুক্ত করা সম্ভব হবে।উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে সামার স্কুল, সহজ ক্রেডিট ট্রান্সফার এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।ড. মাহ্দী আমিন বলেন, দেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো করছে। প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে আরও ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারবে।[BANGVIEWS-POST:4196]সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, জাতীয় সংলাপে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা ও মানোন্নয়নের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে মতামত দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর সরকারি পরিকল্পনাও তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু কর্মক্ষেত্রের জন্য দক্ষ হবে না, পাশাপাশি নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠবে।অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, ইউজিসি চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।দুই দিনব্যাপী এই জাতীয় সংলাপে দেশের প্রায় ৬৫টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, নীতিনির্ধারক, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ এবং উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়তে চায় সরকার