২ বাংলাদেশিকে মৃ'ত্যুদণ্ড দিয়ে সৌদি কি আন্তর্জাতিক আইন ল'ঙ্ঘন করেছে?
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক’ কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পরিবার কিংবা জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ মিশনকে পূর্বাবহিত না করেই এই চরম দণ্ড কার্যকর করায় কূটনৈতিক অঙ্গন ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—সৌদি আরব কি ভিয়েনা কনভেনশন স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে?সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে গত বুধবার ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংবাদ প্রথম প্রকাশিত হয়। মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করে এবং অভ্যন্তরীণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরপরই জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানোর অনুরোধ জানানো হয়। দূতাবাস সূত্র নিশ্চিত করেছে, আটক, বিচারিক কার্যক্রম বা দণ্ড কার্যকরের কোনো পর্যায়েই সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ মিশনকে কোনো তথ্য দেয়নি। এমনকি দণ্ডপ্রাপ্তরা প্রকৃতপক্ষেই বাংলাদেশি নাগরিক কি না, তা-ও দূতাবাসের মাধ্যমে যাচাই করা হয়নি।আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬১ সালের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশন (যা ১৯৬৩ সালের কনস্যুলার সম্পর্কের ভিয়েনা কনভেনশনের সঙ্গে সম্পর্কিত) অনুযায়ী কোনো বিদেশি নাগরিক আটক বা বন্দি হলে তাঁকে অবিলম্বে কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে অবহিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মিশনকে জানাতে হবে। ১৯৮১ সালে ভিয়েনা সনদে অনুস্বাক্ষরকারী হিসেবে সৌদি আরবের ওপর আন্তর্জাতিক আইনের এ বাধ্যবাধকতা রয়েছে।যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ড. রায়হান রশীদ ও ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান শরীফুল হাসান指出 করেন, বিচার ও আপিল প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চললেও কনস্যুলার বিভাগকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও অধিকারের চরম লঙ্ঘন। তাঁরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কি না, সেই গুরুতর প্রশ্নও উঠছে।তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরের মতে, কোনো দেশে বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তা সেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থার আওতাভুক্ত। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে কনস্যুলার সহায়তা না চাইলে কর্তৃপক্ষ নিজ থেকে জানাতে বাধ্য কি না, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তবে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চাইলে সৌদি আরবের তা স্পষ্ট করা উচিত।এদিকে শাস্তি কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তির মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁদের মরদেহ বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে বা আদৌ তা দেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে সৌদি প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। সরকারি তথ্য না থাকায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না মিশন। স্বাভাবিক নিয়মে পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে দূতাবাস মরদেহ আনার প্রক্রিয়া শুরু করে, তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের পূর্ণ নীরবতার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।