মক্কা চুক্তি ইসরায়েলকে বাইরে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিচ্ছে
ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ বা হুথি-সমর্থিত বাহিনীর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে নিজেদের আকাশসীমা ও কৌশলগত স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বহুপাক্ষিক মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সামরিক কার্যকারিতা সক্রিয় করেছে সৌদি আরব। এর মাধ্যমে পশ্চিমা মিত্র বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক শক্তির সমন্বয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষামূলক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার কৌশলগত পথে এগুলো রিয়াদ। তবে এই উদ্যোগে ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা এবং একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলার অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষণমাধ্যম দ্য ক্রেডেলে প্রকাশিত বিশ্লেষক মালেক আল-খুরিরির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।এর আগে ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট মক্কার সাফা প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির নীতিগত অঙ্গীকার অনুযায়ী সদস্য কোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপর সামগ্রিক আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সম্প্রতি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় প্রাণঘাতী হামলার পর গত ৫ অক্টোবর রিয়াদে মক্কা চুক্তির কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠক থেকে যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদের নেতৃত্বাধীন একটি যৌথ সচিবালয়ের মাধ্যমে তিন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় শুরু হয়েছে।তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ইসলামিক ন্যাটোতে রূপ নেয়নি, কারণ এর কোনো স্থায়ী যৌথ কমান্ড বা নিয়মিত সেনাবহর নেই। সহযোগী দেশগুলোর ভূমিকায়ও কিছু রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সীমারেখা রয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে তাদের বাহিনী কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান বা ইয়েমেনের ভেতরে বিমান হামলায় অংশ নিচ্ছে না, বরং সৌদি আরবে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনারা কেবল গোয়েন্দা নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে তুরস্কের সংবিধানে বিদেশে সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ায় আঙ্কারাও ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি অংশ না নিয়ে কেবল কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখছে। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের ইরানবিরোধী সামরিক উত্তেজনার ফাঁদে পা না দিয়ে রিয়াদ মূলত নিজের সীমান্ত রক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করতেই এই বহুপাক্ষিক সমঝোতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।সূত্র: আল জাজিরা