৫৩ বছর পর বিদেশে সেনা পাঠানোর অনুমোদন দিল আলজেরিয়া
নাইজারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং কৌশলগত অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় দেশটিতে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে আলজেরিয়ার সংসদ। ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর এই প্রথম দেশের বাইরে সামরিক বাহিনী পাঠানোর এমন সিদ্ধান্ত নিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি। তবে সেনা মোতায়েনের নির্দিষ্ট সময় ও সদস্যসংখ্যা এখনো জানানো হয়নি।রোববার আলজেরিয়ার সংসদের উচ্চকক্ষে এ বিষয়ে জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭৪ জন সিনেটরের মধ্যে ১৪৮ জন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। পরে সংসদের নিম্নকক্ষও প্রস্তাবটি অনুমোদন করে।এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ২০২০ সালে গৃহীত সাংবিধানিক বিধানের প্রথম প্রয়োগ ঘটতে যাচ্ছে। ওই বিধান বিদেশে সামরিক বাহিনী পাঠানোর সুযোগ তৈরি করে। এর ফলে বিদেশে সেনা মোতায়েন না করার দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে আলজেরিয়া।বিশ্লেষকদের মতে, নাইজারে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নাইজারের মধ্য দিয়ে নাইজেরিয়ার গ্যাস আলজেরিয়ায় পরিবহনের জন্য একটি বৃহৎ পাইপলাইন প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া লিবিয়া সীমান্তের কাছাকাছি উত্তর নাইজারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।সম্প্রতি আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সোনাট্রাক নাইজারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তেল অনুসন্ধানের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সংশ্লিষ্ট তেলকূপগুলোতে আনুমানিক ২৬ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ভোটের পর আলজেরীয় সিনেটর বেলকাসেম বুলঘিতি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা নাইজারে যুদ্ধ করতে আমাদের সৈন্যদের পাঠাচ্ছি না, বরং দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো সুরক্ষিত করার একটি মিশনে পাঠাচ্ছি।’নাইজার ও আলজেরিয়ার সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা কারণে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। ২০২৩ সালে নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছিল আলজেরিয়া। এরপর ২০২৫ সালে আলজেরীয় সীমান্তে মালির একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ে। ওই ঘটনার পর নাইজার আলজেরিয়া থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়।তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে উন্নতির লক্ষণ দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাইজারের সেনাশাসক আবদুরাহমানে চিয়ানি আলজেরিয়া সফর করেন। এর আগে গত আগস্টের শেষ দিকে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন নাইজারে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা দমনে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তা করতে যুদ্ধবিমান ও সামরিক হেলিকপ্টার পাঠান।এদিকে, নাইজারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আলজেরিয়া সফরের পর নতুন করে সেনা মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা মোকাবিলায় নাইজার আলজেরিয়ার সহায়তা চেয়েছে।নতুন সিদ্ধান্তটি আলজেরিয়ার সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সেনা মোতায়েনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ না হওয়ায় এ অভিযানের পরিধি এখনো স্পষ্ট নয়।সূত্র : বিবিসি