পশ্চিম তীরে বন্দুকধারীর গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের প্রবেশমুখে একটি সামরিক চেকপোস্টে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর অতর্কিত হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন সেনাসদস্য। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে দুই সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেবরনের প্রবেশমুখের সামরিক চেকপোস্টে একটি গাড়ি থেকে নেমে বন্দুকধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে প্রাথমিকভাবে পাঁচ সেনা আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর আহত দুই সেনার মৃত্যু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, চেকপোস্টে সেনা ও হামলাকারীদের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে প্রচণ্ড গোলাগুলি চলে। পরবর্তীতে সেনাদের পাল্টা গুলিতে দুই বন্দুকধারীও নিহত হন।সেনাবাহিনী জানায়, হামলাকারীদের গাড়ি তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা, বন্দুকধারীদের মূল পরিকল্পনা ছিল নিকটবর্তী মহাসড়ক ‘রুট ৩৫’-এ বড় পরিসরে কোনো আত্মঘাতী হামলা চালানো। তবে চেকপোস্টে এসে বাধার মুখে পড়ায় তারা সেখানেই সেনাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে।এ হামলার ঘটনার পর শুক্রবার থেকেই পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ লকডাউন’ কার্যকরের কঠোর প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি ঘোষণা দেন, পশ্চিম তীরে যেকোনো ধরনের ‘বড় পরিসরের কড়া সামরিক পদক্ষেপ’ নিতে তেলআবিব সম্পূর্ণ প্রস্তুত।এদিকে ঘটনাটি ইসরায়েলের চলমান জাতীয় নির্বাচনী প্রচারণায় তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিকে মূল ইস্যু বানিয়ে প্রচারে থাকা নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি তাৎক্ষণিকভাবে শুক্রবার সকালের সকল নির্বাচনী কর্মসূচি বাতিল করে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন জোটের চরম ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মটরিচ পশ্চিম তীরে ‘গাজা বা লেবাননের মতো সর্বাত্মক সামরিক অভিযান’ শুরুর দাবি জানিয়েছেন এবং কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতমার বেন গভির ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) অবিলম্বে ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।সূত্র: বিবিসি