ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পাকিস্তান সেনাপ্রধানের পর এবার তুরস্কে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে দেশটির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। রোববার (১৯ জুলাই) সকালে তিনি তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।আইএসপিআর জানায়, সফরকালে সেনাপ্রধান তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও উন্নত ও জোরদারের লক্ষ্যে তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন তিনি। পাঁচ দিনের সফর শেষে আগামী সপ্তাহে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের এই সফর ঘিরে কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এর আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের পর বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশ্লেষকরা।[BANGVIEWS-POST:2050]পর্যবেক্ষকদের মতে, সফরে সামরিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের যোগাযোগ বেড়েছে। বিশেষ করে সামরিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে তুরস্ক বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, তুরস্ক বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প, ড্রোন প্রযুক্তি, সামরিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আগ্রহ বাড়িয়েছে।এর আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ সফর নিয়ে দেশটির গণমাধ্যমে বলা হয়, ইসলামাবাদ আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশ নিয়মিত যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা প্রকল্পে সহযোগিতা করে আসছে।বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের তুরস্ক সফরকে শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে না। এর সঙ্গে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সামরিক আধুনিকায়ন এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে নতুন অংশীদার খোঁজার বিষয়।তুরস্কের তৈরি বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশও দেশটির প্রযুক্তি ও সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।[BANGVIEWS-POST:2019]বাংলাদেশি গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেনাপ্রধানের বিদেশ সফর সাধারণত সামরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও কৌশলগত যোগাযোগ বৃদ্ধির অংশ। তুরস্ক সফরেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।তবে এই সফরকে ঘিরে আঞ্চলিক জোট বা নতুন সামরিক সমীকরণের যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকেও সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিরক্ষা কূটনীতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক সামরিক যোগাযোগও সেই বৃহত্তর বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তান সেনাপ্রধানের পর এবার তুরস্কে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান