ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এআইয়ের যুগ পেরিয়ে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’, ট্রাম্পের বড় ঘোষণা

উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যোগকে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা এবং মার্কিন সরকারের বিভিন্ন নীতির মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ (এসআইএফ—SIF) নামে একটি নতুন ফেডারেল টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।‘ইনাগুরেটিং দ্য এরা অব সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শিরোনামে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। একই আদেশে মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে প্রচলিত ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ এবং ‘এআই’ (AI) শব্দের পরিবর্তে যথাক্রমে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এসআই’ (SI) শব্দ ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এসআইএফ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ট্রাম্পের মতে, প্রযুক্তির এই রূপান্তর শিল্পবিপ্লব ও ইন্টারনেটের আবির্ভাবের তুলনায়ও অনেক বেশি ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন টাস্কফোর্সটি নাগরিক সমাজ, নিরাপত্তা সংস্থা, ধর্মীয় সংগঠন এবং বেসরকারি শিল্পখাতের সঙ্গে মার্কিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ ও সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ও প্রভাব ধরে রাখতেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।এসআইএফের নেতৃত্বে থাকছেন জাতীয় গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারি কর্মী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত চার শীর্ষ কর্মকর্তা। তারা হলেন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন, ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পারসোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপর।নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, এই চার সদস্যের নেতৃত্বাধীন দল সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাছে জবাবদিহি করবে।আদেশে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর আইনি সংজ্ঞা নিয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আপাতত মার্কিন আইনের টাইটেল ১৫-এ থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংজ্ঞাই সুপার ইন্টেলিজেন্সের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।তবে ভবিষ্যতে এ সংজ্ঞা পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর একটি হালনাগাদ আইনগত সংজ্ঞা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী কংগ্রেসে জমা দিতে প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহকারীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে হোয়াইট হাউসে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেখানে ইলন মাস্ক, মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই এবং এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংসহ প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের পাশাপাশি প্রযুক্তিটির বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ প্রযুক্তির প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। আর অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই নিরাপদভাবে প্রযুক্তির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা বর্তমানে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান অগ্রাধিকার।সব মিলিয়ে নতুন এসআইএফের মাধ্যমে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, সরকারি নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে আরও সমন্বিত কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এআইয়ের যুগ পেরিয়ে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’, ট্রাম্পের বড় ঘোষণা