ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র বানাতে চায় না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরকে কোনো ধরনের সংঘাতের মঞ্চে পরিণত না করে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার অঞ্চল হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে এই অঞ্চলের কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর তৃতীয় দিনের একটি অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি ৩ থেকে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। Bay of Bengal Conversationহুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বজুড়ে বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বও বাড়ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে বঙ্গোপসাগর অবস্থান করছে। তাই বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত সুযোগে রূপান্তর করা প্রয়োজন।তার মতে, বঙ্গোপসাগর দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ বাজার, সমুদ্রপথ এবং দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিগুলোকে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ এই অঞ্চলকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে রাখতে চায়।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি জাতীয় স্বার্থ। সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানো এবং জাতীয় উন্নয়নের জন্য অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করাও এই নীতির লক্ষ্য। পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যেও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের একটিকে বেছে নেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের নেই বলে জানান তিনি। যেখানে স্বার্থের মিল থাকবে, সেখানে সহযোগিতা এবং মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার কথা বলেন হুমায়ুন কবির।অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক নীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বাজার, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ এখন কূটনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে বাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশীয় পণ্যের নতুন সুযোগ তৈরিতে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।আঞ্চলিক পর্যায়ে সংযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, খাদ্য, জ্বালানি, পানি, জলবায়ু ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তদেশীয় সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান কম হলেও এর বড় প্রভাব দেশটিকে বহন করতে হচ্ছে। এ কারণে জলবায়ু ন্যায়বিচার, অভিযোজন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। কেবল মানবিক সহায়তার মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে জানান তিনি। এর আগের দিনও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। BSSপরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। তার মতে, বাংলাদেশকে শান্তির অংশীদার, আঞ্চলিক সংযোগের কেন্দ্র, বিনিয়োগের গন্তব্য এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দায়িত্বশীল কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র বানাতে চায় না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী