আর্থিক অনিয়ম-শিক্ষা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ: ডব্লিউএইচও’র পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার তিনি সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএইচওর তদন্ত চলার মধ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন।২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন সায়মা ওয়াজেদ। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি।এর আগে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।রয়টার্স জানায়, ২০২৬ সালের ৩ জুলাই দেওয়া এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।পদত্যাগপত্রে সায়মা দাবি করেন, তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্য নিয়েই দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁকে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, বিনা বেতনে ছুটিতে থাকার কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে এবং ডব্লিউএইচও নেতৃত্বের ওপর তাঁর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।জমি-সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন সায়মা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি সঠিক নয়। তাঁর দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমির মালিকানা পেয়েছিলেন।ভ্রমণসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, ৯০১ ডলারের একটি অর্থ ফেরতের আবেদনে তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে।শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে সায়মা বলেন, অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালককে অবহিত করেছিলেন।রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে দুটি সূত্র জানিয়েছিল, ডব্লিউএইচও সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। আগামী অক্টোবর মাসে নতুন আঞ্চলিক পরিচালকের জন্য মনোনয়ন আহ্বানের সম্ভাবনা রয়েছে।দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের আওতায় বাংলাদেশ, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে। এই পদে থাকা ব্যক্তি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংকট, রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।