প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। একই সঙ্গে বাংলাদেশ নতুন মার্কিন বিনিয়োগ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।শনিবার, ১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন সফররত মার্কিন বিশেষ দূত।বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সার্জিও গর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তার মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ নেতৃত্বের ওপর আস্থাশীল।[BANGVIEWS-POST:2903]বাংলাদেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধনের প্রসঙ্গও বৈঠকে তুলে ধরেন সার্জিও গর। তিনি বলেন, এ পরিবর্তন মার্কিন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।বিশেষ দূত জানান, বাংলাদেশ যে নতুন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত, সে বার্তা তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরবেন।বৈঠকে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে সয়াবিন, তুলা, গম ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক গুদাম ও সংরক্ষণাগার নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ চান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগ হলে দেশে শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বড় ধরনের মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার প্রশংসা করে সার্জিও গর বলেন, ভবিষ্যতে দেশটি প্রযুক্তিভিত্তিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘প্যাক্স সিলিকা’র গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগের দিন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের ভূমিকা প্রশংসনীয়।প্রধানমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পাওয়া সহায়তার অর্ধেকের বেশি যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে থাকে। এ সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কিন সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।[BANGVIEWS-POST:2902]সার্জিও গর রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহযোগিতায় বাংলাদেশে খাদ্য ও ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত পরীক্ষার কার্যক্রম পুনরায় শুরুর বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়।বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।