সৌদি আরবের নেতৃত্বে ১৪ দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট, সদস্য হলো বাংলাদেশ
লোহিত সাগর, বাব-এল মানদেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল এবং বাণিজ্যিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে ১৪টি দেশের অংশগ্রহণে একটি নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করা হয়েছে। ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য প্রকাশ করে।[BANGVIEWS-POST:2855]প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলার কারণে বাব-এল মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরব এই বহুজাতিক সামুদ্রিক জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়।এ উদ্যোগে মোট ৫১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলসহ ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের পাশাপাশি তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস জোটে যোগ দেয়। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এতে স্বাক্ষর করেনি।সৌদি আরবকে জোটটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সদর দপ্তরের স্বাগতিক দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও সদর দপ্তরের নির্দিষ্ট অবস্থান এখনো প্রকাশ করা হয়নি। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে না।[BANGVIEWS-POST:2853]নতুন এই জোটের সদস্য দেশগুলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং সমন্বিত সামুদ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এছাড়া সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছে সদস্যরা।বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বাব-এল মানদেব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। মাত্র ১৮ মাইল প্রশস্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণেই সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে নতুন গঠিত এই জোট।সূত্র: আল জাজিরা