ঢাকা    বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৬০ ঘণ্টায় পাকিস্তানে তুরস্কের একাধিক সামরিক বিমান, উদ্বেগ ভারতে

মাত্র ৬০ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের ঘনঘন যাতায়াত নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। গত ১৯ থেকে ২১ আগস্ট তুরস্কের একাধিক সামরিক পরিবহন বিমান পাকিস্তানে যাতায়াত করেছে বলে উন্মুক্ত উৎসের উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ তথ্যের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের সি-১৩০ হারকিউলিস ও এ-৪০০এম সামরিক পরিবহন বিমান পাকিস্তানের নূর খান, মাসরুর ও মুরিদ বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এসব বিমানের মধ্যে ‘টিইউএএফ৫২৬’ পরিচিতির একটি বিমানও ছিল। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এত অল্প সময়ের মধ্যে তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানগুলো কেন পাকিস্তানে একাধিকবার যাতায়াত করেছে এবং সেগুলোতে কী বহন করা হয়েছিল।[BANGVIEWS-POST:4428]টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিমানে পাকিস্তানের জন্য ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ সামরিক উপকরণ পাঠানো হয়ে থাকতে পারে বলে ভারতের প্রতিরক্ষা মহলের একটি অংশ ধারণা করছে। বায়কার ও আসিসগার্ডের তৈরি বিভিন্ন মানববিহীন আকাশযান নিয়েও জল্পনা রয়েছে। তবে তুরস্ক বা পাকিস্তান কেউই বিমানগুলোর পণ্যসম্ভার সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে অস্ত্র বা ড্রোন সরবরাহের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। ইন্ডিয়া টুডেও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ১৯ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে তুরস্কের একাধিক সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান পাকিস্তানের নূর খান ও মাসরুর বিমানঘাঁটিতে যাতায়াত করেছে। সংবাদমাধ্যমটির সূত্রগুলো এই উড্ডয়নের ধরন ও ঘনত্বকে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। পাকিস্তান তুরস্কের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পের সহযোগিতাও বেড়েছে। ফলে নতুন এই বিমান চলাচল পাকিস্তানের ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে আলোচনা চলছে। তবে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য মূলত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও তাদের নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা সূত্রের ওপর নির্ভরশীল। পাকিস্তান ও তুরস্কের পক্ষ থেকে এসব বিমানে অস্ত্র, ড্রোন কিংবা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। তাই বিমান চলাচলের তথ্য এবং সম্ভাব্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের দাবিকে আলাদাভাবে দেখা প্রয়োজন।[BANGVIEWS-POST:4427]ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে এই তৎপরতার কৌশলগত তাৎপর্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে তুরস্ক নতুন করে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, সাম্প্রতিক বিমান চলাচল পাকিস্তান আরেকটি সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে তুলেছে। তবে এ ধরনের প্রস্তুতির কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।ফলে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ১৯ থেকে ২১ আগস্ট পাকিস্তানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের অস্বাভাবিক মাত্রার যাতায়াত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু ওই বিমানগুলোতে ঠিক কী ছিল এবং এই তৎপরতার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র বা ড্রোন সরবরাহের বিষয়টি জল্পনা হিসেবেই থাকছে।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

৬০ ঘণ্টায় পাকিস্তানে তুরস্কের একাধিক সামরিক বিমান, উদ্বেগ ভারতে