ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

রাজধানীতে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার দুজন হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা।রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী ডিওএইচএস এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। পুলিশের তথ্যমতে, কাজী গুলশান আরাকে পল্লবী এলাকা থেকে এবং দেবাশীষ কুমার বড়ুয়াকে বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী প্রচারণা, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। পাশাপাশি তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। মামলার এজাহারে ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের প্ল্যাটফর্ম এবং ‘কালআজকাল.কম’ নামের একটি পেজের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। এ ছাড়া এজাহারে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে ডিবি। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে সহযোগীদের শনাক্ত করা, কথিত রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা, ডিজিটাল আলামত ও অর্থায়নের উৎস শনাক্ত এবং তাদের ব্যবহৃত অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে। তাদের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেজ পরিচালনা বা সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিজে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ডিএমপির উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছিল এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত এবং কথিত কর্মকাণ্ডের পেছনে অর্থায়ন বা অন্যান্য সহযোগিতার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। 

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার