ঢাকা    বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সাইবার হয়রানির অভিযোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও যৌন হয়রানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ছবি, ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে আপত্তিকর পোস্ট ও ফটোকার্ড প্রকাশ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।অভিযোগ রয়েছে, এসব পোস্ট দ্রুত বিভিন্ন প্রোফাইলে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পোস্টগুলোর মন্তব্যের ঘরেও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও হয়রানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নারী শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সাইবার নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুন থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ‘আমাদের ত্রিশাল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ২৫টি পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলোতে চার হাজার ৭৬৫টি প্রতিক্রিয়া এবং পাঁচ শতাধিক মন্তব্য এসেছে। প্রকাশিত পোস্টগুলোর অন্তত ১৫টিতে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি বা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।একই ধরনের কনটেন্ট আরও কয়েকটি পেজ, গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে তদন্ত শেষ না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলোর মালিকানা কিংবা তাদের মধ্যে সাংগঠনিক যোগসূত্র স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এক ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার পরও দ্রুত দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সাইবার পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। আইসিটি সেল ও প্রক্টরিয়াল বডিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট পরিচয়ে পরিচালিত পেজ ও গ্রুপগুলোর প্রশাসক কারা এবং কীভাবে আপত্তিকর পোস্ট অনুমোদন পাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে থানার ডিউটি অফিসার জানিয়েছেন, এ ধরনের অপরাধ তদন্তে ডিবি, র‍্যাব কিংবা সাইবার পুলিশের মতো বিশেষায়িত ইউনিটের প্রযুক্তিগত সম্পৃক্ততা প্রয়োজন হতে পারে।আইনজীবীদের মতে, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে সাইবার মাধ্যমে ছবি, ভিডিও বা অন্য কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচার সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর আওতায় অপরাধ হতে পারে। তবে কোন ধারা ও শাস্তি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে পোস্টের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, ডিজিটাল প্রমাণ এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর।শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল বলছে, শুধু কয়েকটি পোস্ট অপসারণ যথেষ্ট নয়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর তদারকি জোরদার করতে হবে।সূত্র: জাগো নিউজ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সাইবার হয়রানির অভিযোগ