এআই ব্যবহার করে সাইবার হামলার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী কিমসুকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সাইবার হামলার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জেনিয়ান্স।প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিমসুকি এমন কিছু এআই টুল তৈরি ও ব্যবহার করছে, যেগুলোর মাধ্যমে সাইবার হামলার বিভিন্ন ধাপ স্বয়ংক্রিয় করা, চুরি করা তথ্য বিশ্লেষণ এবং আরও বিশ্বাসযোগ্য ফিশিং বার্তা তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।জেনিয়ান্সের দাবি, কিমসুকি স্থানীয়ভাবে এআই মডেল পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। এর মধ্যে অলমা, জিটিপি ফোর অল এবং এমএসটিওয়াই-এর মতো প্রযুক্তি রয়েছে। পাশাপাশি তারা রিট্রিভাল অগমেন্টেড জেনারেশন (আরএজি) প্রযুক্তিও কাজে লাগাচ্ছে।[BANGVIEWS-POST:3577]প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় কম্পিউটারে এআই মডেল পরিচালনার ফলে সংবেদনশীল তথ্য বাইরের কোনো এআই সেবায় পাঠানোর প্রয়োজন হয় না। এতে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি কমে এবং গোপনীয়তা বজায় রেখে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়।জেনিয়ান্স জানিয়েছে, কিমসুকির ব্যবহৃত কিছু অবকাঠামোয় এআই এজেন্ট তৈরির ফ্রেমওয়ার্ক, স্পিচ-টু-টেক্সট সফটওয়্যার এবং এআই-সহায়ক কোডিং টুলের ব্যবহারও শনাক্ত করা হয়েছে।গবেষকদের ধারণা, কিমসুকি এখন শুধু ভুয়া ইমেইল বা প্রতারণামূলক বার্তা তৈরির জন্য এআই ব্যবহার করছে না। বরং ম্যালওয়্যার তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সাইবার হামলার কার্যক্রম আরও কার্যকর করার দিকেও তারা এগোচ্ছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা অর্থনীতি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কিত কিছু ভুয়া নথি পেয়েছেন, যেগুলো এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব নথি দেখতে বিনিয়োগ প্রতিবেদন বা অফিসের বৈধ কাগজপত্রের মতো হওয়ায় প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ছে।[BANGVIEWS-POST:3575]তবে জেনিয়ান্সের এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স।যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্র-সমর্থিত সাইবার ইউনিট ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অর্থ চুরি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ কিমসুকিকে উত্তর কোরিয়া সরকারের নিয়ন্ত্রিত একটি সাইবার গুপ্তচর গোষ্ঠী হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে।সূত্র: রয়টার্স