ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরতে ১ ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে উৎসব

দেশের হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের বৈশাখি মঞ্চে জেলা প্রশাসন আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘লোকজ সাংস্কৃতিক মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।প্রতিমন্ত্রী জানান, উৎসবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-সংগীতের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাটিয়ালী, জারি, সারি, লোকসংগীত ও বাউলসংগীত পরিবেশিত হবে। আয়োজনের মধ্যে থাকবে পিঠা উৎসব, ঘুড়ি ওড়ানো এবং আঞ্চলিক ঐতিহ্যভিত্তিক নানা অনুষ্ঠান। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের ব্যান্ড সংগীতও স্থান পাবে।তিনি বলেন, গ্রাম ও শহরে হারিয়ে যাওয়ার পথে থাকা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা এবং দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।দেশের সংস্কৃতি বর্তমানে সংকটময় সময় অতিক্রম করছে উল্লেখ করে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিসহ সামগ্রিক ঐতিহ্য রক্ষায় যথাযথ পরিচর্যা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। সহায়তার অভাবে সংগীত, নৃত্য, কবিতা ও লোকজ সংস্কৃতির অনেক ধারা বিকশিত হতে পারছে না।সংস্কৃতির বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে তিনি গাছের উদাহরণ দিয়ে বলেন, পরিচর্যা, সার-পানি ও সুরক্ষা ছাড়া যেমন একটি গাছ বেড়ে উঠতে পারে না, তেমনি প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে সংস্কৃতিরও বিকাশ ঘটে না।প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অন্যান্য খাতের মতো সাংস্কৃতিক অঙ্গনকেও গতিশীল করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আগ্রহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।এদিকে দেশব্যাপী নজরুল বর্ষ উদযাপনের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মসূচি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলো টিকিয়ে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি যাত্রা, সার্কাস ও বিভিন্ন শিল্পকর্মের মতো ধারাগুলোকে সুস্থ, সাবলীল ও রুচিশীলভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধারণের পরিবেশ তৈরি করা গেলে তাদের দেশপ্রেম, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করেন তিনি।ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাস সমৃদ্ধ এবং এখানকার ছেলে-মেয়েরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ভালো পারফর্ম করে। তবে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।সংস্কৃতির বিকাশে সরকার ও মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রচেষ্টা সফল করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরতে ১ ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে উৎসব