ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নিয়োগ পেয়েও প্রাথমিকে যোগ দেননি ১,৪৭১ জন, আসছে নতুন বিজ্ঞপ্তি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও চাকরিতে যোগ দেননি ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী। বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থেকে যাওয়ায় শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিএ) পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’-এর জন্য দুই ধাপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। মোট শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। এসব পদের জন্য আবেদন করেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন। সে হিসাবে প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতায় ছিলেন।প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের জন্য আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন।লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি শুরু হয়। কয়েক ধাপে আদেশ জারির পর নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়।সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৩১ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি এবং একজন মারা গেছেন।কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে ১৩ হাজার ৭৪৮ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তবে নিয়োগপত্র পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজে যোগ দেন ১২ হাজার ৮৩০ জন। নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জন চাকরিতে যোগ দেননি।সব মিলিয়ে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ও একজন মারা যাওয়াসহ ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও যোগ না দেওয়া ৯১৮ জন মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৪৭১ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি।অন্যদিকে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ৮৩ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। তবে প্রদত্ত তথ্যে এই ৮৩ জনকে নিয়োগপত্র না দেওয়ার কারণ উল্লেখ করা হয়নি।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, “অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি। তারা কোনো আগ্রহই দেখাননি। আবার অনেকে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও যোগদান করেননি। হয়তো তাদের অন্যত্র চাকরি হয়েছে। সেটিকে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। সব সরকারি নিয়োগে এমন ঘটনা ঘটে থাকে।”এতসংখ্যক প্রার্থী যোগদান না করায় অধিদপ্তরের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।আবদুর রহিম বলেন, “বড় একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এরপরও পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। এ কারণে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”

নিয়োগ পেয়েও প্রাথমিকে যোগ দেননি ১,৪৭১ জন, আসছে নতুন বিজ্ঞপ্তি