ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’, লোকজন নিয়ে থানার ওসিকে রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামনে আসা ওই ভিডিওতে রুমিন ফারহানাকে ওসির অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।’ একই সঙ্গে ওসির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য ও দুর্নীতির একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। বিপরীতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে থানায় আসায় ‘মব’ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ করেছেন ওসি।ভিডিওতে দেখা যায়, সরাইল থানায় বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে উপস্থিত হওয়ার কারণ জানতে চান ওসি মনজুর কাদের। জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, পুলিশ তাকে নিজের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেকেই করার পরামর্শ দিয়েছিল বলেই তিনি সঙ্গে লোকজন নিয়ে এসেছেন এবং এরাই তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন।কথোপকথনে রুমিন ফারহানা আরও অভিযোগ করেন, ওসির অতীত কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবগত। তাঁর দাবি, ওসি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোনে টাকা দাবি করতেন এবং মাটি কাটা ও ইটভাটা থেকেও নিয়মিত মাসোহারা নিতেন। নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে অর্থ আদায় করা ওসির ব্যবসায় পরিণত হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা দাবি করেন, অতীতে এই ওসির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল।একপর্যায়ে ওসির সঙ্গে আসা লোকজনের মধ্যে কোনো আসামি আছে কি না জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আসামি।’ এরপর তিনি যোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধেই ১২টি মামলা ছিল। পরিস্থিতি চলাকালে ওসি মনজুর কাদের পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ভিডিও কল দিয়ে অভিযোগ করেন, শত শত মানুষ নিয়ে এসে থানায় মব তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা তা অস্বীকার করে জানান, তারা শুধু এমপির নিরাপত্তার স্বার্থেই সঙ্গে এসেছেন।ঘটনার বিষয়ে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ম্যাডামের নিরাপত্তা আমরা সবসময় দিয়ে আসছি। পূজার নিরাপত্তার কারণে পুলিশ কিছুটা ব্যস্ত ছিল। কিন্তু আজ তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে থানার ভেতরে আমার কক্ষে এসে যে আচরণ করেছেন, তা মোটেই সমীচীন নয়। তাঁর সমর্থকরা যে উচ্চবাচ্য করেছে এবং মব করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তা দুঃখজনক। আমার বিরুদ্ধে ঘুস ও টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সাড়া পাওয়া যায়নি।

‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’, লোকজন নিয়ে থানার ওসিকে রুমিন ফারহানা