হিজাব পরায় ফ্রান্সের ভিসা পাননি তুরস্কের শিক্ষার্থী
ফ্রান্সের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পেয়েও ভিসা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তুরস্কের গালাতাসারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। তার দাবি, হিজাব পরা ছবি জমা দেওয়ার কারণে তিনবার তার দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী বলেন, সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি ইরাসমাস কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তাও পেয়েছিলেন তিনি। ফ্রান্সের অনুমোদিত ভিসা আবেদন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে তিনবার আবেদন করেও ভিসা পাননি।শিক্ষার্থীর ভাষ্য, প্রথমবার তার ফ্রান্সে যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ দেখিয়ে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। দ্বিতীয়বার একই সময়ে এক বন্ধুর সঙ্গে আবেদন করলেও বন্ধুর ভিসা অনুমোদিত হয়, কিন্তু তার আবেদন আবারও প্রত্যাখ্যাত হয়।এরপর হিজাবের কারণেই তার আবেদনে আপত্তি তোলা হচ্ছে বলে সন্দেহ করেন তিনি। প্রত্যাখ্যানের কারণ লিখিতভাবে জানতে তৃতীয়বার আবেদন করেন। তার দাবি, শেষ পর্যন্ত তাকে দেওয়া একটি লিখিত নথিতে ছবিতে মাথা অনাবৃত রাখার কথা বলা হয়।শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখের ওই নথিতে ফরাসি ভাষায় ‘তেত ন্যু’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ মাথা অনাবৃত রাখা। এ ঘটনাকে তিনি নিজের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন।তার দাবি, একই সময়ে হিজাব পরা ছবি জমা দিয়েও তার পরিচিত কয়েকজন ফরাসি ভিসা পেয়েছেন। ফলে নিজের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।সরবোনে পড়ার সুযোগটি তার শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেও জানান ওই শিক্ষার্থী। তবে তিনবার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর নতুন করে আর ভিসার আবেদন করার পরিকল্পনা নেই তার।তিনি বলেন, ভবিষ্যতে অন্য শিক্ষার্থীরা যেন একই পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সে জন্য বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলে সেটি স্পষ্টভাবে জানানো এবং ভিসা আবেদনকেন্দ্রের কর্মীদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যথাযথ আচরণের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি