সবজির কোল্ডস্টোরেজ আমচাষিরও নতুন সম্বল
সম্প্রতি বুলু আজাদ নামের এক কৃষি উদ্যোক্তা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২৫ দিন আগে হাঁড়িভাঙা আমের ভরা মৌসুমে তিনি ১৫০ ক্যারেট আম মিনি কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করেন। তখন বাজারে প্রতি মণ হাঁড়িভাঙা আমের দাম ছিল ১,৯০০ থেকে ২,০০০ টাকা। আম সংরক্ষণ করে প্রায় ২০ দিন পর যখন বাজার সরবরাহ কমে, তখন তিনি সেই আম ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এর ফলে ভরা মৌসুমের তুলনায় প্রতি মণ দাম প্রায় ৪ হাজার টাকা বাড়ে এবং মোট অতিরিক্ত আয় হয় তিন লাখ টাকার বেশি।এ ধরনের সফলতার পিছনে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি প্রকল্প। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে চালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১০০টি ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি সৌরবিদ্যুৎচালিত। প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে আরও ৮০টি কন্টেইনারভিত্তিক মিনি কোল্ড স্টোরেজ বিতরণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সবজির সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমিয়ে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পেতে সহায়তা দেওয়া।প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, ফসল দ্রুত নষ্ট হওয়ায় কৃষকদের বিক্রয়ের স্বাধীনতা সীমিত। কোল্ড স্টোরেজের মাধ্যমে তারা ১০ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে দাম বাড়ার সুযোগ পান। এ কারণে পণ্য সংরক্ষণে এটি কার্যকর হয়েছে। যদিও মূলত সবজি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এগুলো স্থাপন করা হলেও সঠিক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রেখে আমসহ ফলও সংরক্ষণ সম্ভব।দেশের বিভিন্ন জায়গায় মিনি কোল্ড স্টোরেজগুলোতে গাজর, টমেটো, মরিচ, বিটরুট, ক্যাপসিকাম, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন ফল, পেঁপে, শসা, বেগুন ও মিষ্টি আলু দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গাজীপুরের শ্রীপুরে গাজর সংরক্ষণ করা হয়েছে ১০৭ দিন, রাজশাহীর পবায় গাজর ৭৭ দিন, বিটরুট ৯২ দিন। খুলনার বটিয়াঘাটায় বিটরুট রাখা হয়েছে ১২২ দিন।সিংগাইর মেদুলিয়ায় সৌরবিদ্যুৎচালিত একটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে যেখানে ২০ জন কৃষকের একটি সংগঠন একসঙ্গে ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাত করে আসছে।কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারাদেশে দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হবে। প্রত্যেকটি ইউনিট পরিচালনা করবে ১৫ থেকে ২০ জনের সমবায়ভিত্তিক কৃষক গোষ্ঠী, যা কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।সূত্র: সমকাল