ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মোবাইলের মাধ্যমে বাজারদর জেনে সবজি বিক্রি করছেন প্রান্তিক কৃষকেরা

মোবাইল ফোনের কল্যাণে দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজির বাজার বগুড়ার মহাস্থানগড়ে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। ফসল সংগ্রহের আগেই শহরের পাইকারি বাজারগুলোর তাৎক্ষণিক দর ও চাহিদা জেনে নিয়ে এখন বাজারে আসছেন প্রান্তিক চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ফলে আগে থেকে সঠিক তথ্য না জানায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে ঠকে যাওয়ার যে ঝুঁকি থাকত, তা অনেকটাই দূর হয়েছে এবং কৃষকদের নিজস্ব পণ্যের দর-কষাকষির সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।মহাস্থান বাজারের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, এখন ফসল কাটার আগেই ভয়েস কল, এসএমএস কিংবা ফেসবুকের মাধ্যমে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের আড়তদারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। এতে বাজারে পণ্য আনার পর হঠাৎ করে দামের বড় ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা কমেছে। যদিও দিনশেষে সবজির চূড়ান্ত দাম বাজারে দৈনিক সরবরাহ ও তাৎক্ষণিক চাহিদার ওপরই নির্ভর করে, তবুও তথ্যের সহজলভ্যতা চাষিদের দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পথ দেখাচ্ছে।বগুড়া সদর উপজেলার রহমতবালা গ্রামের কৃষক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, জমিতে উৎপাদিত মূলা নিয়ে বাজারে আসার আগেই তিনি বাজারদর সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন। কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি মণ মূলা ১ হাজার টাকা থেকে কমে ৫০০-৬০০ টাকায় নেমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি অতিরিক্ত সরবরাহ ও আবহাওয়াজনিত মানের বিষয়টিকে উল্লেখ করেন। একই ধরনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন শিবগঞ্জের উথলী এলাকার ফুলকপি চাষি রাব্বি মোল্লা। তিনি জানান, খেত থেকে সবজি তোলার আগেই বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য দাম জেনে নেন। ঢাকায় চাহিদা বাড়লে স্থানীয় পাইকাররাও বাড়তি দর দিতে বাধ্য হন।মহাস্থান সবজি মোকামে বর্তমানে প্রায় ২০০ জন পাইকার এবং ৭০ জন বাণিজ্যিক আড়তের মালিক সক্রিয় রয়েছেন। মাইশা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আল-মামুন জানান, মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে কৃষক ও পাইকারি মূল্যের মধ্যে আগে যে বিরাট ফারাক থাকত, তা এখন অনেকটাই সংকুচিত হয়ে এসেছে। বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ঢাকার মিরপুরের বিশাল ভাণ্ডার আড়তের প্রতিনিধি হেফজুল বারী ফকির বলেন, প্রতিদিন সকালে রাজধানী থেকে ফোনের মাধ্যমে চাহিদা ও সম্ভাব্য মূল্যের যে নির্দেশনা পাওয়া যায়, সেই অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কেনা হয়। তবে বাজারে কৃষকরাও সরাসরি বাজারদরের খোঁজ রাখায় উপযুক্ত দাম না পেলে তারা পণ্য বিক্রি করেন না।কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, শাকসবজি অত্যন্ত পচনশীল পণ্য হওয়ায় মাঠ থেকে ভোক্তার হাত পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত ফসলের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। মোবাইল সংযোগের কারণে বাজারমূল্য ও চাহিদার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়ায় দ্রুততম সময়ে পণ্য বিক্রি ও পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। এটি কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি কমাতে এবং উৎপাদিত ফসলের অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মোবাইলের মাধ্যমে বাজারদর জেনে সবজি বিক্রি করছেন প্রান্তিক কৃষকেরা