ঢাকা    শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৯ দিন অন্ধকার সুড়ঙ্গে, কীভাবে বেঁচে ফিরলেন নেপালি যুবক?

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্ধকার সুড়ঙ্গে নয় দিন আটকে থেকেও বেঁচে ফিরেছেন ৩০ বছর বয়সী সঞ্জয় সাহ। খাবার ছিল না, চারদিকে ছিল কাদা, ধ্বংসস্তূপ আর অন্ধকার। শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের পাথর চুঁইয়ে পড়া পানি ও বন্যার পানি পান করেই টিকে ছিলেন তিনি। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় জানান, সুড়ঙ্গে এতটাই অন্ধকার ছিল যে দীর্ঘ সময় চোখ বন্ধ করে থাকতে হতো। চারদিকে ছড়িয়ে ছিল ভাঙা টিউবলাইট, যন্ত্রপাতি ও ধ্বংসাবশেষ। নড়াচড়া করতে গিয়ে কয়েকবার শরীরে আঘাতও পেয়েছেন তিনি।সঞ্জয় ছিলেন নেপালের আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের একজন মেকানিক্যাল ফোরম্যান। আগস্টের শেষ দিকে হিমালয়ের একটি হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হলে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে তিনি আটকা পড়েন।শুরুতে তিনি উদ্ধার পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু সময় যত গড়াতে থাকে, ততই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কখনো তিনি মনে করতেন দুই-তিন দিন পার হয়েছে। পরে জানতে পারেন, প্রায় ১০ দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।সঞ্জয় জানান, ভয় ও হতাশা কাটাতে তিনি নিয়মিত হিন্দু ধর্মের মহামন্ত্র জপ করতেন। তার ভাষায়, প্রার্থনা তাকে মানসিকভাবে শান্ত থাকতে সাহায্য করেছে। পরিবার ও দুই বছর বয়সী মেয়ের কথা মনে করেও তিনি সাহস ধরে রেখেছিলেন।সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রথম দিকে তিনি বের হওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন, ধ্বংসস্তূপের কারণে অন্য কোথাও গেলে আরও বিপদে পড়তে পারেন। তাই তুলনামূলক নিরাপদ একটি জায়গায় অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা সেখানেই তাকে খুঁজে পান। উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে বাইরে থেকে যন্ত্রপাতির শব্দ শুনতে পান সঞ্জয়। খননযন্ত্র ও মইয়ের শব্দ শুনে তিনি বুঝতে পারেন, উদ্ধারকারীরা কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। সেটিই তাকে নতুন করে বাঁচার আশা দেয়।তার সঙ্গে একই সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছিলেন ৪৫ বছর বয়সী সহকর্মী কবির মহারজন। বন্যার পানি ঢোকার সময় দুজন আলাদা হয়ে যান। কবিরও পরে জীবিত উদ্ধার হন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। নেপালে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। বহু জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও সুড়ঙ্গে কর্মীরা আটকা পড়েছিলেন। কয়েকজনকে দীর্ঘ সময় পর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সঞ্জয়ের কাছে এই বেঁচে ফেরার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো, যাদের তিনি সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে যেতে বলেছিলেন, তাদের কয়েকজন পরে বন্যার পানিতে ভেসে যান। তিনি বলেন, নিজের বেঁচে ফেরার আনন্দের পাশাপাশি তাদের হারানোর কষ্টও তাকে তাড়া করছে। 

৯ দিন অন্ধকার সুড়ঙ্গে, কীভাবে বেঁচে ফিরলেন নেপালি যুবক?