সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভে কারখানা ও গাড়ি ভাঙচুর, সংবাদকর্মী আহত
ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে একেএইচ গ্রুপের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানার ভবনের কাচ ও চত্বরে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের মারধরের শিকার হয়েছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক।রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) দুপুর আড়াইটার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শিল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দুপুরে হেমায়েতপুরের আশপাশের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে একেএইচ গ্রুপের কারখানাটিতে যথারীতি উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। পাশের ছুটি পাওয়া কারখানার ১৫-২০ জন শ্রমিক প্রথমে এসে একেএইচ গ্রুপের কারখানার শ্রমিকদের বের হয়ে আসার আহ্বান জানান। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ছুটি ঘোষণা না করায় মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ শ্রমিক জড়ো হয়ে কারখানার মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা কারখানার জানালার কাচ ও পার্কিংয়ে থাকা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালান।একেএইচ গ্রুপের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, পাশের কারখানার শ্রমিকেরা এসে প্রথমে হামলা শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের সংখ্যা বেড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ জনে পৌঁছায়। তারা ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং স্টাফদের মারধর করেন।পরবর্তীতে আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজট তৈরি হয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে।এদিকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের হামলার শিকার হন ‘প্রাইম টিভি’র সাভার উপজেলা প্রতিনিধি গোপাল মালাকার। তিনি জানান, ভিডিও করার কারণ জানতে চেয়ে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল বিক্ষোভকারী তাঁর ওপর চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। পরে সাভার মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্পাঞ্চল পুলিশ ও সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরবর্তীতে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করলে এবং পুলিশের আশ্বাসে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে যান।সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা বুঝিয়ে বলার পর আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে দেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।