সবকিছুকে ষড়যন্ত্র বলাও ভুল, ষড়যন্ত্র নেই বলাও ভুল: শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সবকিছুকে ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেওয়া যেমন ভুল, তেমনি দেশে কোনো ষড়যন্ত্র নেই বলে দাবি করাও ভুল।শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে স্থানীয় দৈনিক জালালাবাদ আয়োজিত সুধী সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।শফিকুর রহমান বলেন, “সবকিছুকে ষড়যন্ত্র বলাও ভুল, ষড়যন্ত্র নেই বলাও ভুল। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবকিছুকে ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। আবার ষড়যন্ত্রের অস্তিত্বও অস্বীকার করা যায় না।”বিএনপির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপির মতো একটি দল কেন ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবে? মজলুমের কষ্ট আরেক মজলুমই সবচেয়ে ভালো বোঝে।”[BANGVIEWS-POST:2928]দেশ আবার চোরাবালিতে হারিয়ে যাক কিংবা অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করুক—এটি তারা চান না বলে জানান জামায়াতের আমির।তিনি বলেন, দেশের মানুষের ত্যাগ, কোরবানি, ১ হাজার ৪০০ শহীদের আত্মদান এবং অসংখ্য আহত ও পঙ্গু মানুষের ত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে পারে না। জাতিকে সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্য দিতে হবে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ বদলের প্রত্যাশার প্রতীক হিসেবে একটি গণরায় এসেছিল। তখন সরকারবিরোধী কিংবা বিএনপি-জামায়াত—কেউ আলাদা ছিল না; সবাই সেই গণরায়ের পক্ষে কথা বলেছিল।তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর অনেকেই অবস্থান বদলে ফেলেছেন। জনগণের রায় অগ্রাহ্য করলে কী পরিণতি হয়, তার নজির বাংলাদেশ ও বিশ্বের ইতিহাসে রয়েছে।সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের অন্যায় ও অবিচারের অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে বলে তারা প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে বাস্তবে এখনো সেই ধরনের পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি।তার দাবি, সরকারি দলের মহাসচিবও সরকার গঠনের পর প্রত্যাশিত পরিবর্তন না হওয়া এবং দুর্নীতি বৃদ্ধির কথা বলেছেন। জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে এসব কথা বলে এলেও আগে তা অস্বীকার করা হয়েছিল।প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু একটি দলের ভোটে নির্বাচিত মানুষের নন; তিনি পুরো দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাই দেশের সব নাগরিকের প্রতি তাকে সমান দায়িত্ব পালন করতে হবে।দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। স্পিকারও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে জাতির সামনে বড় সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন—এমন কথাও উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান।[BANGVIEWS-POST:2930]গণমাধ্যমকে সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম সমাজকে সচেতন রাখে, জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনে।সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং দৈনিক জালালাবাদের সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা মুকতাবিস উন নূর।এ ছাড়া মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রব, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং ফিলিপাইন ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।