ভারতের এবারের আন্দোলন নিয়ে আতঙ্কিত মোদি সরকার
ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ঘিরে অনলাইনে শুরু হওয়া তরুণদের ক্ষোভ এখন বড় ধরনের রাজপথের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দিল্লির যন্তর-মন্তর ও পার্লামেন্টসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হওয়া হাজারো শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছেন।শুরুতে আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তবে সময়ের সঙ্গে তাদের দাবিতে পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা এবং সরকারের সামগ্রিক জবাবদিহির বিষয় যুক্ত হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:2302]দ্য ওয়্যারের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে আন্দোলনকারীরা এখন শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না। তাদের অভিযোগ, ধারাবাহিক পরীক্ষা কেলেঙ্কারি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের দায় পুরো সরকারের। ফলে আন্দোলনের লক্ষ্যবিন্দুতে এখন সরাসরি মোদি সরকার।‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ থেকে আন্দোলনটির সূচনা হলেও এতে এখন শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, পেশাজীবী ও বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা যুক্ত হয়েছেন। আন্দোলনটি কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এর গতিপথ অনুমান করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো পরীক্ষা, শিক্ষা, চাকরি ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার মতো জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ফলে ধর্ম, জাতি কিংবা দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আন্দোলনটিকে বিভক্ত করা সহজ হচ্ছে না বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকের ধারণা, আদালত, পার্লামেন্ট ও প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া তাদের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি। এই হতাশা তাদের রাজপথমুখী করেছে। দীর্ঘদিন দাবি উপেক্ষা করার অভিযোগও তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। পরে সরকারের প্রতিনিধিরা আলোচনার উদ্যোগ নিলেও তারা আশ্বাসের পরিবর্তে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চাইছেন।[BANGVIEWS-POST:2297]দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। তবে পুলিশি অভিযানের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তরুণরা। এ ঘটনায় বিরোধী দলগুলোর সমর্থনও বেড়েছে।পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ভারতের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা এবং সরকারি জবাবদিহি নিয়ে তরুণদের বৃহত্তর অসন্তোষের প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।সূত্র: দ্য ওয়্যার