শাহজালাল রুমিকে আগাম জামিন, চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় আলোচিত অভিভাবক শাহজালাল রুমিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুর মহানগর জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রুমির আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন।শাহজালাল রুমির আগাম জামিন আবেদনের শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন ও অ্যাডভোকেট এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা।শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।আইনজীবী বেল্লাল হোসাইন জানিয়েছেন, আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি আলোচনায় আসে।অভিযোগের জেরে মাদ্রাসাটিতে হামলা, শিক্ষককে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।এ ঘটনায় শাহজালাল রুমিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।অন্যদিকে শিশুটিকে যৌন হয়রানির অভিযোগেও পৃথক মামলা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এভাবে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথক দুটি অভিযোগ ও মামলা সামনে আসে।প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় হামলা, শিক্ষককে মারধর, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের অভিযোগে মামলা করা হয়।মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শাহজালাল রুমি অন্যদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ছিলেন।তবে এসব অভিযোগ মামলার বিষয়বস্তু। এগুলো আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়।মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে আইনি প্রতিকার চেয়ে গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন শাহজালাল রুমি।এরপর মঙ্গলবার আবেদনটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়ার পাশাপাশি চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুর মহানগর জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।আদালতের এ আদেশের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রুমিকে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।