ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবে: প্রতিমন্ত্রী

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়া পালন করবেন—এটাই সরকারের প্রত্যাশা বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপস্থিত ভক্ত ও পূজারিদের প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রেখে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বিকেল ৫টা থেকে শুরু করে গভীর রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দুই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রতিটি মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় পুরোহিত, আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ দর্শনার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার যেকোনো সংকটে ও উৎসবে সবসময় সব ধর্মাবলম্বী মানুষের পাশে রয়েছে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।এবারের দুর্গাপূজায় সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় প্রশাসন এবং পূজা উদযাপন কমিটির দায়িত্বশীলদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের তৎপরতা ও জনগণের সহযোগিতায় এবার কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী শুরুতে বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর সার্বজনীন মন্দির, বাগাতিপাড়া পৌরসভা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, গালিমপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ও জামনগর সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরসহ একাধিক মন্দির পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে তিনি লালপুর উপজেলার ধুপইল সার্বজনীন বাজার মন্দির, ওয়ালিয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, মধুবাড়ি লক্ষ্মী মন্দির, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস দুর্গামাতা মন্দির, গোপালপুর লক্ষ্মীনারায়ণ সার্বজনীন পৌর কেন্দ্রীয় মন্দির, বুধপাড়া শ্রী শ্রী কালীমাতা মন্দির, জোতদৈবকী শিব ও কালী মন্দির, ত্রিমোহিনী শিব মন্দির এবং ভাটপাড়া দুর্গা ও শিব মন্দির পরিদর্শন করেন।এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবির হোসেন, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কুমারসহ উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবে: প্রতিমন্ত্রী