মুসলিমদের পূজায় যাওয়া যাবে কি? যা বললেন আহমাদুল্লাহ
শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে অসাম্প্রদায়িকতা বা উদার মানসিকতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে মুসলমানদের পূজামণ্ডপ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে অংশগ্রহণ করাকে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে স্পষ্ট ঈমানবিরোধী ও কবিরা গুনাহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি এক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে তিনি এই সুস্পষ্ট শরয়ি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।আলোচনায় এক প্রশ্নের জবাবে আহমাদুল্লাহ বলেন, মুসলমানদের মধ্য থেকে যদি কেউ উদারতা বা অসাম্প্রদায়িক মনোভাব জাহির করার জন্য পূজায় যান, তবে তা সরাসরি ঈমানবিরোধী ও বিশ্বাসের পরিপন্থী কাজ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, একজন মুসলিম যা অন্তরে বিশ্বাস করেন না, লোকদেখানো বা আত্মপ্রচারণার অংশ হিসেবে বাইরে তা অনুশীলন করতে পারেন না। একজন সত্যিকারের মুসলিমের চিন্তাভাবনা উদার থাকবে এবং তিনি সব ধর্মের প্রতিবেশীকে ভালোবেসে আপন করে রাখবেন; কিন্তু সেই উদারতার অজুহাতে নিজের ধর্মীয় সীমা অতিক্রম করে শিরকপূর্ণ ধর্মীয় আচার বা পূজায় অংশ নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।হাদিসের দলিল উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, কেউ যদি কোনো অমুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় জমায়েতে অংশ নিয়ে তাদের দল ভারী করে, তবে সে যেন তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হয়। এ কারণে সেখানে যাওয়া কোনো সচেতন মুসলমানের জন্য সমীচীন নয়। তিনি আরও যোগ করেন, যেখানে সরাসরি আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে শিরক সংঘটিত হয়, সেখানে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও লানত বর্ষিত হয়। জেনেশুনে নিজেকে এমন স্থানে নিয়ে যাওয়া মানে নিজের ওপর লানত ডেকে আনা। সমস্ত নির্ভরযোগ্য ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত অভিমত অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও গুরুতর গুনাহের কাজ।পরিশেষে তিনি স্পষ্ট করেন, অমুসলিমদের সঙ্গে পারস্পরিক সামাজিক সৌহার্দ্য, মানবিক সহানুভূতি ও প্রতিবেশীসুলভ সুন্দর আচরণ বজায় রাখা ইসলামের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলেও, তাদের উপাসনা বা শিরকপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।