ফেনী সীমান্তে গত ১০ মাসে ৯৫৭ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাড়ে নয় মাসে ফেনী সীমান্তজুড়ে পরিচালিত মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৯৫৭ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৩২৮ টাকার চোরাচালানি পণ্য ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে এসব সীমান্ত অপরাধ ও চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৩০ জনকে আটক করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ফেনী ব্যাটালিয়ন-৪ বিজিবির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসিবুল ইসলাম।প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, মাদক পাচার রোধ এবং রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতা দমনে বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত কঠোর নজরদারি ও টহল অব্যাহত রেখেছেন। এ সময় পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে সীমান্ত এলাকা থেকে ১১টি পিস্তল (৯টি ম্যাগাজিনসহ), ৭টি এয়ারগান, ৫টি দেশীয় পাইপগান এবং ৬২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মজুত করা ১৯ কেজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৭৭ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধার করতে সক্ষম হন বিজিবি সদস্যরা।লে. কর্নেল হাসিবুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত পথে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আগের চেয়ে বহুলাংশে বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলতি বছরে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মূল্যবান চোরাচালান পণ্যের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৫৭ কোটি ১৩ লাখ টাকারও বেশি। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় পরিচালিত অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা ১৬ হাজার ৮০০ ঘনফুট পাথর এবং ৮ হাজার ২০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখতে এবং জননিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিজিবির এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।