রেলওয়ের ৩ হাজার ২৪ একর জমি বেদখলে: সংসদীয় কমিটি
বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট ৬৩ হাজার ৭২ একর জমির মধ্যে বর্তমানে ৩ হাজার ২৪ একর জমি অবৈধ দখলে রয়েছে বলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। বেদখলে থাকা এসব জমি পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করে উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বিশেষ প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে রেলপথ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, কমিটির সদস্য আবদুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ও মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান।মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৪ অক্টোবরের বৈঠকে সংসদীয় কমিটির নির্দেশনার আলোকে রেলওয়ের সামগ্রিক ভূসম্পত্তির এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে রেলের ২৫ হাজার ৮৩ একর জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইজারা দেওয়া রয়েছে। এই খাত থেকে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৮৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। জমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সম্প্রতি 'রেলওয়ে স্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার' চালু করা হয়েছে, যা অব্যবহৃত জমি লিজ দেওয়া এবং বেদখল জমি পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে বেদখল জমি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে। পাশাপাশি স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় রেলভূমিতে মাদক নির্মূলে যৌথ অভিযান চালানো হবে।এদিকে রেলের মালবাহী পরিবহন সম্পর্কে মন্ত্রণালয় জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কনটেইনার এবং জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহন চালু থাকলেও মিটারগেজ লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) তীব্র সংকটে মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সংকট কাটাতে সম্প্রতি ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন ক্রয়ের ডিপিপি অনুমোদন এবং অপর ৩০টি ক্রয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে মোট ৬০টি নতুন ইঞ্জিন বহরে যুক্ত হলে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হবে। এ ছাড়া দ্রুতই ২০০টি ব্রডগেজ কোচ রেলে যুক্ত হবে, যার মধ্যে ১৮টি ইতিমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। এই কোচগুলো পাওয়ার পর ঢাকা-মোংলা রুটে নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।বৈঠকে অনলাইন টিকেটিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করতে যাত্রার ১০ দিন আগে একবারে সব টিকিট না ছেড়ে প্রতিদিন ১০ শতাংশ করে টিকিট ছাড়ার প্রস্তাব করেন কমিটির এক সদস্য। বর্তমানে টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের সঙ্গে রেলওয়ের চুক্তি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। ফলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্বচ্ছতা বজায় রেখে নতুন ভেন্ডর নিয়োগে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।