ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ফ্রান্সে বিক্ষোভের নামে লুটপাট, সেই পণ্য এখন বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে

ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন দোকান থেকে লুট করা পণ্য এবার অনলাইনে বিক্রির চেষ্টা চলছে। বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের পণ্য থেকে শুরু করে প্রসাধনসামগ্রী পর্যন্ত বিভিন্ন জিনিস বিক্রির সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন সামনে আসায় অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে ফরাসি সরকার।বুধবার (২১ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে একদল ব্যক্তি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালায়। পরে এসব ঘটনায় আরও অনেকে জড়িয়ে পড়েন।বিক্ষোভ চলাকালে বিলাসবহুল পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান লুই ভুটন ও রোলেক্সের দোকান হামলা ও লুটপাটের শিকার হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ ছাড়া প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠান সেফোরার খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালানো হয়।এসব ঘটনায় দোকানগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যেই লুট হওয়া পণ্য অনলাইনে পুনরায় বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে।বিশেষ করে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নতুন প্রসাধনসামগ্রী, দামি ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্যের সন্দেহজনক বিক্রয় বিজ্ঞাপন পাওয়া যাচ্ছে। এসব পণ্যের কিছু লুটপাটের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনলাইন পণ্য কেনাবেচার প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে ফরাসি সরকার।ফ্রান্সের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা এবং বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী সার্জ পাপিন জানিয়েছেন, সোমবার (১৯ অক্টোবর) অনলাইন মার্কেটপ্লেস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন।বৈঠকে লুট করা পণ্য কেনাবেচা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং চোরাই পণ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সার্জ পাপিন জানান, লুট করা পণ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নতুন সংকটের মুখে পড়েছে। বিক্ষোভ ও লুটপাটে দোকানের সম্পদ হারানোর পাশাপাশি সেই পণ্য অনলাইনে বিক্রির চেষ্টা তাদের ব্যবসার জন্য আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে।চোরাই পণ্যের বিক্রি ঠেকাতে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর সহযোগিতা নিয়ে নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা জোরদার করছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।তবে এখন পর্যন্ত কতগুলো সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন শনাক্ত হয়েছে কিংবা কী পরিমাণ লুট করা পণ্য অনলাইনে বিক্রি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স।

ফ্রান্সে বিক্ষোভের নামে লুটপাট, সেই পণ্য এখন বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে