বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, আজ সই হবে ১৫ সমঝোতা স্মারক
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৫টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।বৃহস্পতিবার চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্টহাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।[BANGVIEWS-POST:599]মাহদী আমিন বলেন, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে, যা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান বিদেশ সফর তিনটি ধাপে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রথম ধাপে তিনি মালয়েশিয়া সফর করেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দ্বিতীয় ধাপে চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ সম্মেলনে অংশ নেন।ওই সম্মেলনে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, গিনি ও কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগ তুলে ধরেন।তৃতীয় ধাপে চীনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বেইজিং সফর করছেন তারেক রহমান। বুধবার তিনি বেইজিং পৌঁছালে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়।মাহদী আমিন বলেন, এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা, চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুওয়িংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং নৌ-নেভিগেশন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:601]এদিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ উৎপাদন ও শিল্প খাতের একটি প্রতিযোগিতামূলক ও লাভজনক গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।
মাহদী আমিন জানান, আগামীকাল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।