ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সক্রিয় ভূমিকা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের আরও সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।বুধবার (৪ নভেম্বর) বঙ্গভবনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয় তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বৈঠকের বিস্তারিত জানান।সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।বৈঠকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।রাষ্ট্রপতি এ সংকট সমাধানে চীনের অব্যাহত সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন। জবাবে লিউ হাইশিং রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।এ ছাড়া চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীনের সহযোগিতার জন্য দেশটিকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।বাংলাদেশের অবকাঠামো ও শিল্প খাতে চীনের সম্পৃক্ততার বিষয়েও আলোচনা হয়।রাষ্ট্রপতি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরেন।তাঁর মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।এ সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবিত কুনমিং-চট্টগ্রাম সংযোগ করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর সম্প্রসারণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি।তিনি আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের এই উদ্যোগের জন্য শি জিনপিংকে ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে তাঁকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়ক খাতে চীনের বিনিয়োগ উভয় দেশের জন্য লাভজনক হতে পারে।জবাবে চীনা মন্ত্রী সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান।এ ছাড়া এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের অর্থায়ন ও নির্মাণে চীনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উঠে আসে।রাষ্ট্রপতি ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই সফরগুলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিংও বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরেন।তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়।বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন লিউ হাইশিং।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত জুনে চীন সফরের বিষয়টিও বৈঠকে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।তিনি বলেন, ওই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতাসংক্রান্ত দলিল স্বাক্ষর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।রাষ্ট্রপতি নিজের সর্বশেষ চীন সফরের কথাও স্মরণ করেন। সফরকালে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।সৌজন্য সাক্ষাতের আগে বঙ্গভবনে পৌঁছালে চীনা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। পরে তাঁকে বঙ্গভবনের সচিবদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতি চীনা মন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে বঙ্গভবন ঘুরিয়ে দেখান।এ সময় লিউ হাইশিংয়ের বাবা, সাবেক রাষ্ট্রদূত লিউ শুকিংয়ের ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশের ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।পাশাপাশি বর্তমান রাষ্ট্রপতির স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী থাকাকালে চীন সফরের আলোকচিত্রও দেখানো হয়।সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (সমন্বয়) সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।চীনা প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লিউ ইউইন এবং সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন।এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, জন বিভাগের সচিব ও প্রেস সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সক্রিয় ভূমিকা চাইলেন রাষ্ট্রপতি