ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ফের মুখোমুখি, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জর্ডানে মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করে এমন দুটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এক মাসের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক হামলা-পাল্টা হামলার এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ‘পানিশমেন্ট অব দ্য অ্যাগ্রেসর’ বা ‘আগ্রাসনকারীর শাস্তি’ নামের অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।[BANGVIEWS-POST:4837]আইআরজিসির দাবি, হামলায় ঘাঁটি দুটির কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরানের এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। বিপরীতে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে। দুই ঘাঁটির কোনোটিতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।এর আগে রোববার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় লারাক দ্বীপে আইআরজিসির দুটি রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য, ইরানি বাহিনী ওই উৎক্ষেপণব্যবস্থা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক মাইন বহনকারী রকেট ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য ‘আসন্ন হুমকি’ ঠেকাতেই সীমিত ও নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান অবশ্য মার্কিন ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে লারাক দ্বীপের হামলাকে নিজের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। লারাক দ্বীপে হামলার পর জর্ডানে পাল্টা আঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এদিকে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন কর্মসূচির পরিচালক সিনা আজোদি আল জাজিরাকে বলেছেন, পরিস্থিতি আবার বড় ধরনের সংঘাতে গড়াবে কি না, তা অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। তার মতে, ওয়াশিংটন নতুন করে ইরানে হামলা চালালে তেহরানও পাল্টা জবাব দেওয়ার চাপের মুখে পড়বে এবং তাতে পরিস্থিতি আবার পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতের দিকে যেতে পারে। [BANGVIEWS-POST:4836]সর্বশেষ এই হামলা-পাল্টা হামলা হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সামরিক সংঘাত আরও বাড়লে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পড়তে পারে। ইতোমধ্যে লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা ও ইরানের পাল্টা জবাবের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফলে এখন নজর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ওয়াশিংটন ও তেহরান কেউই নতুন করে বড় ধরনের হামলায় গেলে সীমিত এই পাল্টাপাল্টি আঘাত আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ফের মুখোমুখি, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র