বস্তাবন্দি ভিডিও পাঠিয়ে তিন ছাত্রীর জন্য ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি
বান্দরবানের লামায় তিন স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিখোঁজের কয়েকদিন পর পরিবারের কাছে বস্তাবন্দি মানুষের অবয়বের একটি ভিডিও পাঠিয়ে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বুধবার, ১৪ অক্টোবর লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নিখোঁজ তিন ছাত্রী হলেন ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া সুলতানা ও হালিমাতুজ সাদিয়া এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমি আক্তার।স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অপর দুই ছাত্রীও বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তাদের আর সন্ধান পাওয়া যায়নি।ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারে, তিন ছাত্রীর সর্বশেষ অবস্থান পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলায় ছিল।এরপর তারা বাসে করে কক্সবাজার কিংবা রামুর দিকে গিয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এর মধ্যেই বুধবার দুপুরে একটি মোবাইল নম্বর থেকে পরিবারের কাছে একটি ভিডিও পাঠানো হয়। ভিডিওতে বস্তাবন্দি অবস্থায় একজন মানুষের অবয়ব নড়াচড়া করতে দেখা যায় বলে জানানো হয়েছে। এরপরই তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি নিখোঁজ তিন ছাত্রীর কেউ কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। একইভাবে মুক্তিপণ দাবির পেছনে কারা রয়েছে, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।একসঙ্গে তিন কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়া এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে রয়েছেন। পাওয়া ভিডিওটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ছাত্রীদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুক্তিপণ দাবির ভিডিও পাওয়া গেলেও এটিকে এখনই অপহরণের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। ভিডিওটির সত্যতা, সেখানে থাকা ব্যক্তির পরিচয় এবং অর্থ দাবিকারীদের পরিচয় তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।