বিমানবন্দরের বাইরে পৃথক কার্গো ভিলেজ নির্মাণের তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর
বিমানবন্দরে বিদ্যমান কার্গো জট নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালু রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিমানবন্দরে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ কমানো যাচ্ছে না। তাই স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত ছুটির দিনেও সংশ্লিষ্ট সেবা সচল রাখা প্রয়োজন।[BANGVIEWS-POST:602]বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সংকট ও এর সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর কোনো গুদাম বা দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণস্থল নয়; এটি মূলত পণ্য আগমন ও বহির্গমনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কার্গো বিমানবন্দরে অবস্থান করায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানবন্দরের বাইরে আধুনিক ও নিরাপদ সুবিধাসম্পন্ন একটি পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।তিনি বলেন, আগামী এক দশকের চাহিদা বিবেচনায় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। হ্যাজার্ডাস, নন-হ্যাজার্ডাস, দ্রুত পরিবহনযোগ্য এবং ধীরগতির পণ্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে কার্গো পরিচালনা আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।সভায় জানানো হয়, বর্তমানে প্রতিদিন যে পরিমাণ কার্গো বিমানবন্দরে প্রবেশ করছে, প্রায় সমপরিমাণ পণ্য খালাসও হচ্ছে। তবে আগে থেকে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ কার্গো কমানো সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সীমিত কার্যক্রমও এ সমস্যার অন্যতম কারণ।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ধরনের সমাধান নিয়েই কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা এবং করণীয় নির্ধারণ করা হবে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আগত একটি উড়োজাহাজ কিংবা বিমানবন্দরে পণ্য খালাসের অভিজ্ঞতাই বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের প্রথম পরিচয়। তাই এই অভিজ্ঞতা ইতিবাচক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।[BANGVIEWS-POST:604]
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।