রেলওয়েকে যাত্রী ও জনবান্ধব করা হবে: রেলমন্ত্রী
বাংলাদেশ রেলওয়ের কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন এনে প্রতিষ্ঠানটিকে যাত্রী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে রেলওয়ের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে বিদেশি যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।শেখ রবিউল আলম জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ রেলওয়ের আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় রেলওয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি বর্তমান প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার অতীত ঐতিহ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একসময় এটি দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ও সুপরিচিত রেলওয়ে কারখানা ছিল। দেশের রেলশিল্পের সক্ষমতা ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করত প্রতিষ্ঠানটি।তিনি জানান, ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত কারখানাটির প্রয়োজনীয়তা সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত সরকারি মনোযোগ ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশিত সম্প্রসারণ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।কারখানার উৎপাদন সক্ষমতার পরিবর্তন তুলে ধরে রেলমন্ত্রী বলেন, অতীতে এখানে রেলকোচ ও ওয়াগন মেরামতের জন্য প্রায় ১২ হাজার ধরনের ক্ষুদ্র ও মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরি করা হতো। বর্তমানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের মধ্যে মাত্র ৬৫৪টির মতো উৎপাদন করা হচ্ছে।ফলে রেলওয়ের প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এই আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানান মন্ত্রী।কারখানায় চলমান কোচ মেরামতের মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বর্তমানে যেভাবে রেলকোচ মেরামত করা হচ্ছে, তা প্রত্যাশিত মানের নয়। এ কাজে আরও উন্নত মান নিশ্চিত করতে হবে।রেলমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি কোচ মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোচের প্রতিটির মেরামতকাজ যথাযথ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।এ ছাড়া সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার জনবল সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। কারখানার উৎপাদন বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সচিব ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।এ সময় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।