রুশ হামলায় অচল বন্দর, ঝুঁকিতে ৪০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি
রুশ বিমান হামলায় চলতি বছর ইউক্রেনের অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ায় রপ্তানি আয়েও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে কঠিন শীতের আশঙ্কা করছে কিয়েভ।ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রুশ হামলা ও কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো অচল হয়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে ক্ষতির পরিমাণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশের সমান।দেশটির অর্থমন্ত্রী ওলেক্সান্দর ক্রাভচেঙ্কো বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় প্রায় প্রতিদিন হামলা হচ্ছে। একই সময়ে যুদ্ধের ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে আসন্ন শীত ইউক্রেনের জন্য আরও কঠিন হতে পারে।রাশিয়া ও ইউক্রেন এখন সামনের সারির পাশাপাশি একে অপরের সরবরাহব্যবস্থা, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা বাড়িয়েছে। গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাশিয়া প্রায় নিয়মিতভাবে কিয়েভে দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। এতে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবন, ব্যবসা ও সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।রুশ হামলার প্রভাবে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলোও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এর ফলে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষিপণ্য, লোহা ও ইস্পাতের মতো ইউক্রেনের প্রধান রপ্তানি পণ্যের বড় অংশ এসব বন্দর দিয়ে পরিবহন করা হয়।বাজেটেও বাড়ছে চাপযুদ্ধের কারণে অবকাঠামো ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকারি রাজস্বও কমেছে। দেশটির পার্লামেন্টের বাজেট কমিটির প্রধান রোকসোলানা পিদলাসা জানিয়েছেন, বছরের প্রথম আট মাসে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার কম এসেছে।একই সময়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউক্রেন প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করেছে। অথচ অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ও স্থানীয় ঋণ থেকে এসেছে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার।যুদ্ধের দৈনিক ব্যয়ও বেড়ে প্রায় ১৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে এই ব্যয় ছিল প্রায় ১৪ কোটি ডলার। সেনাসংখ্যা বৃদ্ধি, গোলাবারুদের ব্যবহার, মূল্যস্ফীতি এবং নিহত সেনাদের পরিবারের জন্য বাড়তি সহায়তার কারণে ব্যয় বাড়ছে।বছর শেষ হওয়ার আগেই প্রতিরক্ষা খাতে আরও অর্থের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে কিয়েভ। ঘাটতি সামাল দিতে সামরিক নয় এমন কিছু খাতে ব্যয় কমানো বা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছেও আরও আর্থিক সহায়তা চাইছে ইউক্রেন।তবে যুদ্ধ চলতে থাকায় অর্থনৈতিক চাপ কমার বদলে আরও বাড়ছে। আর সামনে শীতকাল হওয়ায় অবকাঠামো ও জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর রুশ হামলা আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।সূত্র: রয়টার্স