ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলে রিশাদ-সাইফ, লাল বলে ফেরার অপেক্ষা

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন সাদা বলের ক্রিকেটে পরিচিত দুই ক্রিকেটার রিশাদ হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে দুজনের সামনে।বিশেষ করে রিশাদকে ঘিরে টেস্ট ক্রিকেটে সম্ভাবনা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। সাদা বলের ক্রিকেটে লেগ স্পিনের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও অবদান রাখা এই ক্রিকেটার লাল বলে কতটা কার্যকর হতে পারেন, দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে তার একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে।অন্যদিকে সাইফ উদ্দিনের জন্য সুযোগটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হলেও চোট ও ধারাবাহিকতার সমস্যায় তিনি দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন সাইফ। এরপর এবারই প্রথম চার দিনের ক্রিকেটের দলে ফিরলেন তিনি।[BANGVIEWS-POST:4536]তবে রিশাদ ও সাইফের অন্তর্ভুক্তি পুরোপুরি পরিকল্পিত ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব না হওয়ায় মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও এনামুল হককে দেশে ফিরতে হচ্ছে। পাশাপাশি চোটের কারণে শাহাদাত হোসেন, জাকির হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন দল থেকে ছিটকে গেছেন। প্রথম ম্যাচের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন কালাম সিদ্দিকিও।একই সময়ে চারটি দল নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। জাতীয় দলের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে হাই পারফরম্যান্স দল। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলছে ইমার্জিং ও ‘এ’ দল। খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা, ভিসা জটিলতা ও চোটের কারণে দল সাজাতে গিয়ে নির্বাচকদের বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক নাদিফ চৌধুরী জানান, ভিসা জটিলতা ও চোটের কারণে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ভাষ্য, বাধ্য হয়েই সাদা বলের ক্রিকেটারদের দিয়ে ‘এ’ দলের ম্যাচ খেলাতে হচ্ছে।রিশাদের ক্ষেত্রে লাল বলে ফেরাটা তুলনামূলক স্বাভাবিক। তিনি সর্বশেষ গত নভেম্বরে জাতীয় লিগে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। জাতীয় দলের ব্যস্ততা না থাকলে মাঝেমধ্যে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটেও অংশ নেন তিনি।তবে সাইফের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি বড় পরীক্ষা হতে পারে। ‘এ’ দলের ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতির জন্য মিরপুরে সাদা বলের অনুশীলনে থাকার পর হঠাৎ করেই তাকে লাল বলের ক্রিকেটে ফিরতে হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর তার ফিটনেস, বোলিং ও ব্যাটিং সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।তবে স্কোয়াডে থাকলেও রিশাদ ও সাইফ একাদশে সুযোগ পাবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তারা মাঠে নামলে দুজনের পারফরম্যান্সের ওপর বাড়তি নজর থাকবে। রিশাদের জন্য এটি টেস্ট ক্রিকেটে নিজের সম্ভাবনা জানান দেওয়ার সুযোগ, আর সাইফের জন্য দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে ফেরার দাবি জোরালো করার মঞ্চ।[BANGVIEWS-POST:4535]দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের স্কোয়াডে ফিরেছেন জাকের আলি ও মুশফিক হাসানও। অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দল থেকে তাদের ‘এ’ দলের হয়ে খেলানোর জন্য ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। তবে ভিসা জটিলতার কারণে প্রথম ম্যাচে তারা দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি।অভিজ্ঞতার দিক থেকেও বাংলাদেশ ‘এ’ দলটি বেশ শক্তিশালী। নুরুল হাসান সোহান খেলেছেন ১১টি টেস্ট। সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হওয়া তাওহিদ হৃদয় এবার দলটির নেতৃত্ব দেবেন। এছাড়া দলে আছেন রেজাউর রহমান রাজা, যিনি বিভিন্ন সময়ে ‘এ’ দল, বিসিবি একাদশ ও জাতীয় দলের টেস্ট স্কোয়াডে ছিলেন।বাংলাদেশ ‘এ’ দল ও দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের মধ্যকার দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচটি ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে অনুষ্ঠিত হবে।বাংলাদেশ ‘এ’ দল: মোহাম্মদ নাঈম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয়, আফিফ হোসেন, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), হাসান মুরাদ, নাঈম হাসান, আল ফাহাদ, রেজাউর রহমান রাজা, জাকের আলি, মুশফিক হাসান, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলে রিশাদ-সাইফ, লাল বলে ফেরার অপেক্ষা