ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাসুলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়ন ছাড়া রাষ্ট্রে শান্তি আসবে না: চরমোনাই পীর

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শ বা সীরাতের বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো রাষ্ট্রেই কাঙ্ক্ষিত শান্তি ফিরে আসতে পারে না বলে দৃঢ় মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মহানবীর সুমহান আদর্শ থেকে মানবজাতি নিজেদের দূরে সরিয়ে নেওয়ার কারণেই আজ বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে তীব্র অশান্তি, অরাজকতা ও মানবিক বিপর্যয় বিরাজ করছে। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় সীরাত সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর উল্লেখ করেন, মহান রাব্বুল আলামিন মানবজাতির সামগ্রিক মুক্তির দূত হিসেবে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে এই ধরায় পাঠিয়েছিলেন। তিনি যে ঐশী আদর্শ ও বার্তা নিয়ে এসেছিলেন, তা সর্বান্তকরণে গ্রহণ করার ফলেই তৎকালীন আইয়ামে জাহেলিয়াতের ঘোর অন্ধকার ও অভিশাপ থেকে সৃষ্টিকুল মুক্তি লাভ করেছিল। বর্তমান দেশের বিরাজমান সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন দেশের সর্বত্র গুম, খুন, চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং সীমাহীন দুর্নীতির অপশাসন চলছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী দীর্ঘ সময় ধরে যে মানবরচিত আদর্শ ও বিভ্রান্ত নীতির ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়ে আসছে, তাতে দেশের সাধারণ মানুষ কখনো প্রকৃত মুক্তি পায়নি এবং ভবিষ্যতেও পাবে না। এই অচলাবস্থা ভাঙতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি ও আদর্শের আমূল পরিবর্তন অপরিহার্য এবং সেই শাশ্বত আদর্শই হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সীরাত।ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে দলটির আমির বলেন, প্রতিষ্ঠার সূচনা থেকেই তারা ইসলামী শাসনব্যবস্থা তথা শরিয়াহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কেবল শরিয়াহ আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই মানুষকে সার্বিক মুক্তি এনে দিতে পারে; কারণ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সুশাসনের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত নিহিত রয়েছে রাসুলের সীরাতের মধ্যে। যিনি গোটা মহাবিশ্বের স্রষ্টা, মানবজাতি পরিচালনার শ্রেষ্ঠ ও ত্রুটিহীন আইনও তিনিই প্রদান করেছেন, যা রাসুলের বাস্তব জীবনচরিতে প্রস্ফুটিত। মানবজাতির সার্বিক মুক্তির স্বার্থে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় জীবনে এই সীরাত বাস্তবায়নের সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলুল করীম বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে বহু মানুষ রাসুলের সীরাত অনুসরণ করায় তাদের ব্যক্তিক আচরণে শৃঙ্খলা ও নীতিবোধ দেখা যায়; কিন্তু সমাজ, রাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সীরাতের অনুশীলন ও প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম উদাসীনতা বিরাজ করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সীরাত আমাদের সুস্পষ্ট শিক্ষা দেয় যে শাসকরা কখনোই ক্ষমতার দাপটে জনগণকে শাসন ও শোষণ করবেন না, বরং তাঁরা নিজেদের সবসময় জনগণের খাদেম ও সেবক মনে করবেন। এই মৌলিক চেতনা জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিবছর সীরাত সম্মেলনের মতো প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়।অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান সীরাত গবেষক ও বিশিষ্ট লেখক এনামুল করীম ইমামকে বিশেষ সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয় এবং মাসব্যাপী আয়োজিত সীরাত প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। নগর সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহর দক্ষ সঞ্চালনায় এ সম্মেলনে আরও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ, সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আ ইখ ম ইউনুস, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান, গবেষক ডা. আবিদ হোসেন এবং নগর সহসভাপতি আলহাজ আবদুর রাজ্জাক, এম এইচ মোস্তফা ও ফজলুল হক মৃধাসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

রাসুলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়ন ছাড়া রাষ্ট্রে শান্তি আসবে না: চরমোনাই পীর