ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পদত্যাগের পর যেসব সুবিধা পাবেন সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমৃত্যু অবসরভাতা, চিকিৎসাসেবা ও কূটনৈতিক পাসপোর্টসহ বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার অধিকারী মো. সাহাবুদ্দিন।শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের উদ্দেশে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। চিঠিতে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির জটিলতা ও অটোনমিক নিউরোপ্যাথিসহ বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কথা উল্লেখ করেন। এটিকে সরাসরি ‘মানসিক অসুস্থতা’ বলা যথাযথ নয়।রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।[BANGVIEWS-POST:2438]‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬’ অনুযায়ী, কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করা অথবা মেয়াদ শেষ করা সাবেক রাষ্ট্রপতি সর্বশেষ মাসিক মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে আমৃত্যু অবসরভাতা পাবেন।রাষ্ট্রপতির বর্তমান মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে মো. সাহাবুদ্দিন মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী।রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে অন্য কোনো চাকরি বা পদ থেকে অবসরভাতা পেয়ে থাকলে তিনি আগের অবসরভাতা ও রাষ্ট্রপতির অবসরভাতার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন; একই সঙ্গে দুটো নেওয়ার সুযোগ নেই। অবসরভাতা গ্রহণের পর তার মৃত্যু হলে স্ত্রী আমৃত্যু ওই ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন।সাবেক রাষ্ট্রপতি চাইলে মাসিক অবসরভাতার পরিবর্তে এককালীন আনুতোষিক নিতে পারবেন। এ জন্য অবসরভাতার অধিকার অর্জনের এক মাসের মধ্যে লিখিতভাবে ইচ্ছা জানাতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময় গণনায় আংশিক বছরকে পূর্ণ বছর হিসেবে ধরা হয়।এ হিসাবে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকে চার বছর ধরে সম্ভাব্য আনুতোষিকের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে এটি আইনের সূত্র ও বর্তমান বেতনের ভিত্তিতে করা হিসাব; চূড়ান্ত অর্থ সরকারি কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিন আরও পাবেন একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন অ্যাটেনডেন্ট এবং সরকার নির্ধারিত দাপ্তরিক ব্যয়। একজন মন্ত্রীর সমপরিমাণ চিকিৎসাসুবিধা, সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিনা মূল্যে সরকারি যানবাহন, বাসায় টেলিফোন সংযোগ ও নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিল মওকুফের সুবিধাও তার থাকবে।এ ছাড়া তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের ভেতরে ভ্রমণের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগ পাবেন। চিকিৎসা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে থাকার সুবিধা তার স্ত্রীও পাবেন।[BANGVIEWS-POST:2428]তবে দায়িত্ব ছাড়ার পর সংযুক্ত তহবিল থেকে বেতন বা সুবিধা পাওয়া যায়—এমন কোনো পদে দায়িত্ব নিলে এসব সুবিধা প্রাপ্য হবে না। আদালতে নৈতিক স্খলনজনিত বা অন্য কোনো অপরাধে দণ্ডিত হলে কিংবা সুপ্রিম কোর্ট তাকে অসাংবিধানিক বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত বলে ঘোষণা করলেও সুবিধা বাতিল হবে।ফ্যাক্ট চেক: মাসিক ৯০ হাজার টাকা অবসরভাতা এবং উল্লিখিত অন্যান্য সুবিধার হিসাব ২০১৬ সালের আইন ও রাষ্ট্রপতির ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের উদ্দেশে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে; স্পিকারের আনুষ্ঠানিক ‘গ্রহণ’ পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার আলাদা সাংবিধানিক শর্ত হিসেবে উল্লেখ নেই।

পদত্যাগের পর যেসব সুবিধা পাবেন সাহাবুদ্দিন